সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাড়িতে পাওয়া নথির হলফনামা প্রকাশ করল বিচার বিভাগ। তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্পের বাড়ি মার-এ-লাগোতে সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনের সঙ্গে অতি গোপনীয় নথিও মজুত করে রাখা হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ যেসব নথিপ্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে এফবিআই বিচারকদের জানিয়েছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়িতে তারা যে তল্লাশি চালিয়েছে, সেখান থেকে বিচারে বাধা দেওয়ার কিছু প্রমাণ তারা পেয়েছে। ট্রাম্প এ তদন্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, তাকে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এসব ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, ট্রাম্পের বাড়ি মার-এ-লাগোতে সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনের সঙ্গে অতি গোপনীয় নথিও মজুত করে রাখা হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ বলছে যে, তল্লাশির যে হলফনামা আদালতে দেওয়া হয়েছে, সেটি তারা সেন্সর করে প্রকাশ করেছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেসামরিক নাগরিকের সাক্ষ্য সুরক্ষা দিতে এটি করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ ঐ হলফনামা প্রকাশ করে। এফবিআই এজেন্টরা চলতি মাসের ৮ তারিখ ট্রাম্পের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং ঐ সময় একটি সিন্দুক ভেঙে ফেলা হয়। প্রেসিডেন্ট থাকার সময় সরকারি কাগজপত্র ট্রাম্প কীভাবে ব্যবহার করেছেন, তা নিয়ে একটি তদন্তের অংশ হিসাবে এই তল্লাশি চালানো হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি বেড়েছে এমন সময়, যখন তিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে তাকে বিরত রাখতে বিচার বিভাগকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাড়িতে অভিযান চালানোর পর ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এ ধরনের ঘটনা কেবল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে দেখা যায়। দুঃখজনক হলো, আমেরিকা এখন সেসব দেশের একটি হয়ে উঠেছে। এরকম ‘দুর্নীতি’ আগে কখনো দেখা যায়নি। এফবিআই আমার একটা সিন্দুকও ভেঙেছে।
তবে এফবিআই এজেন্টদের যারা তল্লাশির বিষয়ে হলফনামা তৈরি করেছেন তারা লিখেছেন যে, প্রমাণ ও বিভিন্ন অবৈধ দ্রব্য সেখান থেকে পাওয়া যাবে এটা বিশ্বাস করার অনেক কারণ আছে।
কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট অনেক নথিপত্র বেআইনিভাবে ছিঁড়ে ফেলেছেন। ন্যাশনাল আর্কাইভস জানিয়েছে, অনেক কাগজপত্র আবার আঠা লাগিয়ে জোড়া দিতে হয়েছে। যখন প্রথম এই খবর প্রকাশিত হয়, তখন সেটি ‘মিথ্যা সংবাদ’ বলে দাবি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এফবিআই বলছে, ট্রাম্পের বাড়িতে পাওয়া প্রমাণগুলোর মধ্যে কিছু খুবই স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য আছে। কিছু এমনভাবে চিহ্নিত করা আছে যাতে সেগুলো কখনো বিদেশি নাগরিকদের কাছে না যায়। কিছু ফাইলে ট্রাম্পের হাতে লেখা নোট আছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো অতি গোপনীয় নথি ছিল উন্মুক্ত এবং অন্য কাগজপত্রের সঙ্গে মেশানো।
তদন্তকারীরা বলছেন, তিনটি আলাদা আইনের লঙ্ঘন করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। ৩৮ পাতার এই হলফনামায় ২১টি পাতার লেখাই কালো কালি দিয়ে মুছে প্রকাশ করেছে বিচার বিভাগ। এর মধ্যে কোনো কোনো পাতায় একটি শব্দও বোঝা যায় না। ডকুমেন্টসে বলা হয়েছে যে বেসামরিক সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য হলফনামার কিছু অংশ অবশ্যই গোপন রাখতে হবে। যাতে করে সাক্ষীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে না পড়ে।