শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের (৪০) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ১৩ দিনেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য তথ্য পায়নি পুলিশ। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সঠিক ঘটনা উদ্ঘাটন করা যাচ্ছে না। এদিকে নিহত শিক্ষিকার স্বামী মামুন হোসেন এখানো কারাগারেই আছেন।
নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসিম উদ্দিন গতকাল শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ইত্তেফাককে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, শিক্ষিকা মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী মামুন হোসেনকে গ্রেফতারের পর ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। এছাড়া এই মামলায় অন্য কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মূলত ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তদন্তের উল্লেখযোগ্য উন্নতির কথা বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে খায়রুন নাহারকে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন শিক্ষিকার বড় ছেলে সালমান বিন্ত। তিনি গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সামাজিকভাবে তারা হেও হচ্ছিলেন। এ কারণে আত্মীয়স্বজনেরা তার মায়ের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ রক্ষা করতেন না। যারা যোগাযোগ করতেন তারা বিভিন্নভাবে কটূক্তি করতেন। সবমিলিয়ে দ্বিধা-সংকটে পড়েন তার মা খায়রুন নাহার।
তিনি বলেন, ১২ আগস্ট তার মা খায়রুন নাহার তাকে জানান, মামুনকে চার মাসের মধ্যে দুইটি মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছেন। প্রথমটি ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্যের, দ্বিতীয়টি ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের পালসার সিঙ্গেল ডিক্স মডেলের। এতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না মামুন। মা খায়রুন নাহারকে টাকার জন্য শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন চালাতেন মামুন। হত্যা বা আত্মহত্যা যা-ই হোক, তার জন্য দায়ী মায়ের দ্বিতীয় স্বামী মামুন হোসেন। তিনি মামুনের বিচার দাবি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় নাটোর সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন নিহতের চাচাতো ভাই ছাবের হোসেন। মামলার বাদী ছাবের হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, মৃত্যুর বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় তিনি অপমৃত্যুর মামলাটি দায়ের করেছেন। এখন পুলিশি তদন্তের অপেক্ষায় আছে।
তবে খায়রুনের মৃত্যু নিয়ে বাবা খয়বর আলীর পরিবারের লোকজন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নিহত শিক্ষিকার ছোট ভাই আব্দুল খালেক ইত্তেফাককে জানান, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে বড় ছেলেকে নিয়ে গুরুদাসপুর পৌর সদরের খামারনাচকৈড়ে নিজস্ব বাড়িতে থাকতেন তার বোন খায়রুন। পরিবারের অসম্মতি থাকার পরও দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাদের সঙ্গে খায়রুনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। খায়রুনের মৃত্যু নিয়েও তাদের কোনো আপস নেই। এর আগে দীর্ঘ প্রেমের পর শিক্ষিকা-ছাত্রের বিয়ের বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ কারণে ঐ শিক্ষিকা দ্বিতীয় স্বামী মামুনের সঙ্গে নাটোর শহরের বলাড়িপাড়া মহল্লার নান্নু মোল্লা ম্যানশনের চারতলায় ভাড়া থাকতে শুরু করেন। ১৪ আগস্ট ভাড়া বাসা থেকে ঐ খায়রুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ দিন বিকালে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য খায়রুনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আবু বক্কর সিদ্দিক কওমি মাদরাসায় জানাজা শেষে গুরুদাসপুর পৌর সদরের খামারনাচকৈড় কবরস্থানে লাশটি দাফন করা হয়।
ঘটনার দিন পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয় স্বামী মামুন হোসেনকে। মৃত্যুর বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরদিন ১৫ আগস্ট তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে পুলিশ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামুনকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেনি।