বান্দরবানে পড়ল মিয়ানমারের মর্টার শেল

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তিনটি মর্টার শেল নিক্ষেপ করেছে। গতকাল রবিবার বিকালের দিকে মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপিত মর্টার শেলগুলো নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্র‚ উত্তর মসজিদের কাছে আছড়ে পড়ে। ১২০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের মর্টার শেলগুলো বিস্ফোরিত না হলেও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে বিজিবি সতর্কাবস্হায় রয়েছে।

এ ঘটনার তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা এ ঘটনায় মিয়ানমারের কাছে কড়া প্রতিবাদ পাঠাবে। আমরা সাধারণত এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে থাকি। কিছু দিন আগেও আমরা এ ধরনের ঘটনার খবর পেয়েছি।

ঘুমধুম এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন বলেন, বিকাল ৩টার দিকে বিকট শব্দে একটি গোলা উত্তর পাড়ার আয়াজের বাড়ির কাছে এসে পড়ে। পরে আরো একটি গোলা কাছাকাছি রাস্তায় নিক্ষেপিত হয়। আরেকটি গোলা এসে পড়ে মসজিদের কাছে। এর পর থেকে আমরা আতঙ্কে আছি, জানি না কখন কী হয়!

ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ওপারে গোলাগুলি হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এতদিন পাহাড়ে গোলা ছুড়লেও আজকে উত্তর পাড়ায় মর্টার শেলগুলো পড়েছে, স্হানীয়রা আতঙ্কে আছে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বিজিবিও সতর্ক অবস্থায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এ ব্যাপারে বিজিবির হেড কোয়ার্টারের পরিচালক (অপারেশন) মেজর ফয়েজুর রহমান জানান, সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। যে কোনো পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবির জোয়ানরা।

এদিকে রাখাইনে উত্তেজনার কারণে ঘুমধুমের দক্ষিণ কোনাপাড়া সীমান্তের শূন্য রেখায় বাস করা ৬২১টি পরিবারের ৪ হাজার ২০০ রোহিঙ্গা আতঙ্কে রয়েছেন। শূন্য রেখার আশ্রয় শিবিরে বাস করা রোহিঙ্গা আব্দুল হাকিম (৫৫) বলেন, ‘হঠাৎ করেই রাখাইনে তুমুল সংঘর্ষ হচ্ছে, আমরা আতঙ্কে আছি কখন জানি আমাদের হতাহত হতে হয়।’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতীতে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তর মংডুর ৩৮ নং সীমান্ত পোস্ট-সংলগ্ন এলাকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রাখাইনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। এছাড়া রাখাইনের পালেতুয়া এলাকায় সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৭ জন মিয়ানমারের সেনাসদস্য নিহত হয়েছে।