বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বুকে নিয়ে বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে খেলতে গিয়েছিলেন টেবিল টেনিসের নারী খেলোয়াড় সোনম সুলতানা সোমা এবং সাদিয়া রহমান মৌ। এই খেলোয়াড় খেলা বাদ দিয়ে বেড়াতে চলে গিয়েছিলেন। এমন অভিযোগে সোমা এবং মৌকে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন।
টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, চিঠি দিয়ে দুই খেলোয়াড়কে কারণ জানতে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। ফেডারেশন কর্মকর্তা হাসান মুনির জানিয়েছেন অসুস্থতার কথা বলে ওয়াকওভার দিয়ে খেলেনি। খেলা বাদ দিয়ে বেড়াতে গিয়েছে। দেশের পতাকা বুকে নিয়ে নিকৃষ্ট জঘন্য কাজ করেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে কেন আপানাদের নিষিদ্ধ করা হবে না। তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। সোমা এবং মৌকে তিন বছরের জন্য আন্তর্জাতিক খেলা থেকে বহিষ্কার এবং দুই বছরের জন্য ঘরোয়া খেলায় কেন বহিষ্কার করা হবে না। অভিযুক্ত খেলোয়াড়রা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন তারা নির্দোষ।
টেবিল টেনিস ফেডারেশন জানিয়েছে, আগের ম্যাচ খেলে ইনজুরি হয়েছিল সোমার। পরদিন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা। ইনজুরি হলে ডাক্তার দেখবেন, দলের কর্মকর্তারা ছিলেন তারা দেখবেন। যদি ইনজুরি বেশি হয়, খেলার মতো ফিটনেস না থাকে, তাহলে সোমা ক্যাম্পে থাকবেন। গেমস ভিলেজ রয়েছে, সেখানে অবস্থান করবেন। আমরা আগেই জানিয়ে দেব আমাদের খেলোয়াড় আঘাতপ্রাপ্ত। মুনির জানিয়েছেন সোমা গেমস ভিলেজ থেকে বেরিয়ে লন্ডন যাবে বলে ছুটি যায়।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলে। ছুটি না পেয়ে শেফ দ্যা মিশন আব্দুর রকিব মন্টুর কাছে ছুটি চায়। সেখানেও সাড়া না পেয়ে ফোন বন্ধ করে দেয়। মুনির বলেন, ‘আমরা ফোন করেও তাকে পাচ্ছিলাম না। পরে ফেসবুকে দেখলাম মৌ এবং সোমা ছবি দিয়ে লিখেছে— আমরা লন্ডনে ফুফুর বাসায়।’ দেশের টাকা খরচ করে খেলোয়াড়দের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দেশের সম্মান বৃদ্ধি করার জন্য। অথচ তারা অবহেলা করে দেশের দায়িত্ব বোধের কথা ভুলে গিয়ে আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গেলেন। এ নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সোমা এবং মৌ পরিণত বয়সের খেলোয়াড়, তারা কীভাবে দেশের খেলা রেখে আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গেলেন। টিটি ফেডারেশনের সভায় কর্মকর্তারা ব্যাপক সমালোচনা করেন।