ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি পর্যায়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন সেদ্ধ ও আতপ চাল ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল বারিক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভারত থেকে জিটুজি পর্যায়ে এক লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪১৭ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। ৭০ হাজার টন লটের চাল আসবে পোর্টের মাধ্যমে। এরফলে প্রতিকেজি চালের দাম পড়বে ৪২.১৩ টাকা। ৩০ হাজার টন লটের চাল আসবে স্থলপথে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতিকেজি ৪০.৭০ টাকা। এছাড়া ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি পর্যায়ে দুই লাখ টন থাই নন-বাসমতি চাল এবং ভারত থেকে ৩০ হাজার টন আতপ চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পৃথক এক প্রস্তাবে রাশিয়া থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে কেজি প্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪১ টাকা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাশিয়া থেকে ডলারে ক্রয়ের বিষয়টি বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন বন্দর দিয়ে আনা হবে সেগুলো পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ক্রয় কমিটির বৈঠকে ১৫টি প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএডিসি কর্তৃক দুবাই ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হতে ১ লাখ মে.টন এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার সরাসরি ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে ৯৩১ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। পৃথক এক প্রস্তাবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক সৌদি আরব থেকে ৬ষ্ঠ লটে ৩০ হাজার মে.টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অপর এক প্রস্তাবে সৌদি আরব থেকে ৭ম লটে ৩০ হাজার মে.টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্রয় কমিটির আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপি ইএফডি/এসডিসি মেশিন সরবরাহ, ব্যবহার এবং খুচরা পর্যায়ে আদায়কৃত ভ্যাটের তথ্য সংগ্রহের জন্য সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে সেবা প্রদানকারী ভেন্ডর নিয়োগের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অপর প্রস্তাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-জিটুজি প্রক্রিয়ায় মেঘনা নদী হতে পানি পরিশোধনপূর্বক সরবরাহ প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।