চট্টগ্রামে গণপরিবহনে আসন সংকটে নারীদের প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পরিবহনগুলোতে নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকে আটটি। কিন্তু কর্মব্যস্ততার কারণে গণপরিবহনে এখন নারীদের যাতায়াত কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু নারীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন সংরক্ষিত না থাকায় পুরুষের পাশাপাশি তাদের দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে।
কর্মক্ষেত্রে এখন নারীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। গণপরিবহনে করে তাদের কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। কর্মজীবী নারীদের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে ইপিজেডের বাইরে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আনানেওয়ার নিজস্ব কোনো পরিবহন নেই। ফলে এসব নারী শ্রমিককে গণপরিবহনে নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া স্কুলে ছোট ছেলেমেয়েদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে মায়েরা আনানেওয়া করেন। কলেজের ছাত্রীদেরও গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হয়। কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ে যাতায়াত করতে হয়। দেখা যায়, সকাল বেলা অফিস টাইমে ও বিকালে অফিস ছুটির পর গণপরিবহনগুলোতে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়। যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম। ফলে নারীদের বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে হলেও গন্তব্যে যেতে হয়। কোনো কোনো সময় মানবতা দেখিয়ে পুরুষেরা নারীদের বসার সুযোগ দিলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের দাঁড়িয়েই যাতায়াত করতে হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুসারে গণপরিবহনে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আটটি আসন সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।’
চট্টগ্রামে নগর পরিবহনে সিট ক্যাপাসিটি বাস শুধু একটি রুটে চলাচল করে। অন্য রুটে সিট ক্যাপাসিটি পরিবহন নেই। ফলে নগরে সিট ক্যাপাসিটি বাসের সংখ্যা বাড়ানো গেলে নারীদের ভোগান্তি অনেক কমে যেত।
চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম রসুল বাবুল বলেন, ‘গণপরিবহনে নারী প্রতিবন্ধীদের জন্য আটটি আসন নির্ধারিত থাকে। আমরা এসব সিটের ওপরে লিখে দিয়েছি মহিলা আসলে সিট ছেড়ে দিন।’ চট্টগ্রাম নগরীতে যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহন সংকট রয়েছে। সকালে অফিস শুরু ও বিকালে ছুটির পর সড়কে যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। তখন গাড়ির চরম সংকটে পড়ে যাত্রীরা। গাড়ি স্বল্পতায় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে গন্তব্যে যেতে হয়। আবার রুট পারমিট না মেনে এক রুটের গাড়ি অন্য রুটে চলাচলের কারণে গাড়ির সংকট বেড়ে যায়।
ক্যাব চট্টগ্রামের বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। আটটি নির্ধারিত আসন দিয়ে নারীদের নিরাপদ যাত্রা সম্ভব নয়। সম্ভব হলে সংরক্ষিত আসন বাড়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন কানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা দরকার। গাড়িতে নারীদের ওপর সহিংসতা রোধে চালক হেলপারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’