মির্জাপুরের শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট, দিশেহারা মিল মালিকরা 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাসের সংকটে কারখানায় উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় মিলকারখানায় প্রতি দিন কোটি কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে লোডশেডিং। গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ে দিশেহারা কারখানা কর্তৃপক্ষ। কবে নাগাদ এই সংকট সমাধান হবে, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্টিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, গ্যাস লাইনের কম্প্রেসারের মূল পাইপে গ্যাসের চাপ না থাকায় ও বিভিন্ন স্থানে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হওয়ায় গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে।  

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গোড়াই শিল্পাঞ্চলের একাধিক কারখানার কর্মকর্তা-মালিক ও শ্রমিক সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট বড় মিলে শতাধিক মিলকারখানা রয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টস, নিটিং অ্যান্ড ডাইয়িং, সুতা উৎপাদন কারখানা, টায়ার অ্যান্ড টিউব, সিরামিকস ও গ্লাস ফ্যাক্টরি ইত্যাদি। এসব কারখানায় উৎপাদন মূলত গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। টাঙ্গাইলের প্রায় ৮০ হেক্টো মিলিয়ন গ্যাসের প্রয়োজন। বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০-৪০ হোক্টো মিলিয়ন। তাও আবার কোনো দিন পাওয়া যাচ্ছে না। 

উল্লেখযোগ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কম্পিট কম্পোজিট নিট লিমিটেড, কম্পিট কম্পোজিট স্পিনিং মিলস, কম্পিট কম্পোজিট গার্মেন্ট, নাহিদ কটন মিলস লি. ডেলসি কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, উত্তরা স্পিনিং মিলস লিমিটেড, টেকনো স্পিনিং মিলস লিমিটেড, নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সাউথ ইস্ট টেক্সটাইলস স্পিনিং মিলস লিমিটেড, সাউথ ইস্ট গার্মেন্টস লিমিটেড, ইয়ুৎ স্পিনিং মিলস লিমিটেড, বেঙ্গল এনএফকে লিমিটেড, খান গার্মেন্টস লিমিটেড, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাসটিজ লিমিটেডসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। 

এসব শিল্পকারখানায় প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক চাকরি করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দীর্ঘ দিন ধরে এসব শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে মিল বন্ধ হয়ে শ্রমিকদের চাকরি হারাতে হচ্ছে। এছাড়া মালিকপক্ষও শত শত কোটি টাকার লোকসানে বলে কারখানার মালিক-কর্মকর্তা এবং শ্রমিকরা জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে কম্পিফিট কম্পোজিট নীট লিমিটেডের সিইওি ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু কাউসার এবং জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. ফারুক হোসেন বলেন, গোড়াই শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের তীব্র সংকট থাকায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে প্রতি মাসে তাদের শত শত কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি দিন গড়ে ১২-১৫ ঘণ্টাই গ্যাসের অভাবে মেশিনের চাকা ঘুরছে না। উদৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট থাকায় এই কারখানায় কোটি কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার  অভিযোগ করার পরও তারা বিষয়টির দিকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। 

এ ব্যাপারে শিল্প মালিকদের সংগঠন গোড়াই-কালিয়াকৈর-কোনাবাড়ি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফোরামের সভাপতি বিধান রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় কয়েক শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন ধরে মূল লাইনে গ্যাসের চাপ নেই। দিন রাত মিলে ২-৩ ঘণ্টাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে যোগ হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। উৎপাদন না হওয়ায় তাদের শত শত কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিদেশি বায়ারদের অর্ডার বাতিল হচ্ছে। সেই সঙ্গে কারখানায় কর্মরত প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের টাঙ্গাইল জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. খোরশেদ আলম বলেন, গ্যাস সরবরাহ করেন জিডিসিএল। তারা গ্যাসের রেশনিং সিস্টেম চালু করেছেন। কমপ্রেসারের মূল লাইনে গ্যাসের চাপ না থাকায় শিল্পে নয় বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গ্যাসের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রয়োজন মাফিক তারা গ্যাস পাচ্ছেন না। গোড়াই শিল্পের মালিকদের পক্ষ থেকে গ্যাস না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।