জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, এটা আমাদের গর্ব। বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা কখনো ভয় পায় না, ভয় পেতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। বিপদে-আপদে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্য সবাই মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে।
গতকাল শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালী ইউনিয়নের হরিণপালায় জেলার সর্বস্তরের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, উপজেলা পরিষদ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ করার জন্য। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ—এসব হচ্ছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একেকটি স্তর। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এখানে জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব লাভ করেন। যে দায়িত্ব তারা পাঁচ বছরের জন্য প্রাপ্ত হন। এই সময়কালে ঈমান, মানুষের আস্থা, রাষ্ট্রীয় আদেশ-নির্দেশ নীতিমালা অনুসরণ ও সততার সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত থেকে উন্নয়নকাজ করাই তাদের কর্তব্য। এ সমস্ত গুণাবলী রক্ষা করে দায়িত্ব পালনের পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হন, জনগণের সমর্থন পুনরায় অর্জনের অধিকার তারা রাখেন। অর্পিত দায়িত্ব ঈমানের সঙ্গে পালন করা, নির্বাচিত হওয়ার সময় প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠতে পারা ইত্যাদি কাজ করতে পারলে জনগণ অবশ্যই তাদের পুনরায় ভোট দেবে। এখানে যারা আজকে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসেছেন, সে সকল জনপ্রতিনিধি আমার বক্তব্যের মর্মার্থ অবশ্যই উপলব্ধি করতে সক্ষম বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, সামনে জেলা পরিষদ নির্বাচন। যারা জেলা পরিষদে নির্বাচিত হয়ে জনগণের আস্থার মধ্য থেকে কাজ করেছেন, তারা অবশ্যই পুনরায় এই পদে আসীন হবেন বলে আমি মনে করি। তিনি দল থেকে মনোনয়ন পান বা না পান, তার যদি জনসমর্থন থাকে, ভোটারদের মধ্যে অবস্থান থাকে বা স্বনামধন্য হন, তাহলে অবশ্যই পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, উন্নয়নের ব্যাপারে, কাজের ব্যাপারে, এক থাকতে হবে। ৩৭ বছর যাবত আমরা এ অঞ্চলের উন্নয়ন করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে উন্নয়নক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। আমরা যখন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্র রাজনীতি করেছি, তখন আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যাপৃত থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য সাহসের সঙ্গে সংগ্রাম করেছি, আন্দোলন করেছি। অধিকার আদায়ে আমরা কখনোই পিছ পা হয়নি; যা ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত শিক্ষা।
পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে মহিউদ্দিন মহারাজের দায়িত্ব পালনের মেয়াদপূর্তিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগণ, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরগণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ উপস্থিত ছিলেন। পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক মহিউদ্দিন মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হাসান গাজী, ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মনিরুল হক জোমাদ্দার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিবুল হোসেন মাহিম, নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার অমূল্য রঞ্জন হালদার, ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম মতিউর রহমান অ্যাডভোকেট, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম আব্দুস শহিদ, স্বরূপকাঠি পৌর মেয়র গোলাম কবির, জেপির কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির সভাপতি আবু সাঈদ মিয়া মনু, মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুল হক সেলিম, ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সেলিম, কাউখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বায়জিদ আহমেদ, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আক্তার, ইন্দুরকানী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলরুবা মিলন নাহার, মঠবাড়িয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার, নেছারাবাদ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস জাহান, নেছারাবাদের সোহাগদল ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রশীদ মিয়া ও সুটিয়াকাঠি ইউপি সদস্য মো. ইদ্রীস আলী। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সদস্যসচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারেক।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি পরে সন্ধ্যায় পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার বেকুটিয়ায় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর পূর্ব প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলে এক কর্মসূচিতে যোগ দেন। আজ রবিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি দেখার জন্য তিনি বেকুটিয়ায় আসেন এবং উপস্থিত সকলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়া সঞ্চালনা করেন কাউখালী উপজেলার ইউএনও মোসা. খালেদা খাতুন রেখা। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইসাহাক আলী খান পান্না, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস শহিদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদী রেবেকা শাহীন চৈতী, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রশীদ মিল্টন, উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, জেপির উপজেলা সহসভাপতি শাহ আলম নসু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে শিয়ালকাঠির দেলোয়ার হোসেন, সদরের মোস্তাফিজুর রহমান, চিড়াপাড়ার লাইকুজ্জামান তালুকদার মিন্টু প্রমুখ।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু রাতে ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘সামাজিক সম্প্রীতি’ কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।