জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, ২৪ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত

জাতীয় গ্রিডের একটি সঞ্চালন লাইনে বিভ্রাট হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশের খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী এবং ফরিদপুর অঞ্চলের ২৪টি জেলা প্রায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন ছিল। সকাল ৯টার দিকে খুলনায় একটি সঞ্চালন লাইন হঠাৎ করে সম্পূর্ণ অকার্যকর (ট্রিপ) হওয়ার কারণে এ বিপর্যয় ঘটে। তবে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিভিন্ন এলাকায় পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়। বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে।

সঞ্চালন লাইন ট্রিপ করার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) প্রধান প্রকৌশলী (সিস্টেম অপারেশন) বি এম মিজানুল হাসানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পিজিসিবির জনসংযোগ ব্যবস্থাপক এ বি এম বদরুদ্দোজা সুমন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪ মিনিটে সঞ্চালন লাইন ট্রিপ করলে জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী এবং ফরিদপুর বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে। এরপর ধাপে ধাপে পুনরায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়।

ঐ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুপুর ১২টা নাগাদ সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি সারানো গেলেও বিতরণ লাইনের সঙ্গে সমন্বয় করতে আরও সময় লেগেছে। দুপুর ১টা-দেড়টার দিকে চাহিদার অর্ধেক লোডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বিকাল ৫টা নাগাদ সব এলাকায় সঞ্চালন-বিতরণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে কিছু এলাকায় শিডিউলড লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও দেরিতে শুরু হয়। 

পিজিসিবির এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে ঈশ্বরদী-ভেড়ামারা ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন ‘ট্রিপ’ করে। এর প্রভাবে ভেড়ামারায় বাংলাদেশ-ভারত ৪০০ কেভি হাই ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনের (এইচভিডিসি) একটি সার্কিট ‘ট্রিপ’ করে। তাতে দেশের ২৪ জেলায় বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দেয়।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু করতেও কিছু পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে। আবার কোনো কারণে কোনো সঞ্চালন লাইনে লোড বেড়ে গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কোনো কারণে কোনো কেন্দ্র বা সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন-সঞ্চালন-বিতরণের পুরো সিস্টেমে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে কিছু এলাকা বিদ্যুত্হীন রেখে অথবা অন্য কোনো গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ এনে লোড সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তা করা না গেলে অর্থাৎ লোড সমন্বয় না হলে অন্য কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বাড়ে। এভাবে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর নতুন করে কোনো কেন্দ্র বন্ধ হলে সরবরাহে ঘাটতি আরও বাড়ে এবং একইভাবে অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রও বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে সিস্টেম ট্রিপ করে।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং বৃহত্তর ফরিদপুরসহ ২১ জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল ইসলাম জানান, গ্রিড লাইন থেকে ‘ট্রিপ’ করায় তার পুরো এলাকাই বেশ কিছুক্ষণ বিদ্যুত্হীন ছিল গতকাল সকালে। দুপুর আড়াইটার দিকে পুরো ঠিক হয়ে গেছে। এখন যদি কোথাও বিদ্যুৎ না থাকে সেটা উৎপাদন ঘাটতির জন্য।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সঞ্চালন কেন্দ্রে বিপর্যয় দেখা দিলে ভারতের সঙ্গে সঞ্চালন লাইন বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় দেশের উত্পাদনে থাকা সব বিদ্যুেকন্দ্র একযোগে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সারা দেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় (ব্ল্যাক আউট) দেখা দেয়।