ভারতীয় শিল্পপতিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ উদার দেশ মন্তব্য করে এদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লির হোটেল আইটিসি মৌরিয়াতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারতীয় বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সময় ও খরচ কমিয়ে ‘বাই-ব্যাক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন করতে পারে।

PM_Business Forum-9

শেখ হাসিনা জানান, ২০২১-২২ অর্থ বছরে বাংলাদেশে মোট বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ১৩৭০ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে ভারত থেকে এসেছে মাত্র ১৫ দশমিক ৭৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিমুখী বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সুবিধা অর্জনে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্র্রয়োজন।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদার নীতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা, আকর্ষণীয় প্রণোদনা নীতি এবং ধারাবাহিক সংস্কারসহ এই অঞ্চলে বাংলাদেশের রয়েছে সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতি।

বিনিয়োগ এবং দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে শিল্পায়নের প্রসার এবং বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়াতে সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২৮টি হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

PM_Business Forum-2

মোংলা এবং মিরেরশরাইয়ে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, এখানে উপস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই। এটি দুই দেশের সদিচ্ছাকে কাজে লাগানোর পথ প্রশস্ত করবে এবং এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে।

PM_Business Forum-10

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে বিশাল বাজার পাওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা শুধুমাত্র ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে নয়, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তাদের পণ্য রফতানি করতে সক্ষম হবে।