'লন্ডন ব্রিজ ইজ ডাউন'

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাকিংহাম প্যালেসের তরফ থেকে রানির মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। এর আগে রানির শারিরীক অবস্থার অবনতিতে 'রয়্যাল প্রোটকল' মেনে আগে থেকেই ঠিক করা ছিল একটি কোড বা বার্তা। ৯৬ বছর বয়সী রানির মৃত্যু হলে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা যাবে, 'লন্ডন ব্রিজ ইজ ডাউন', যার আসল অর্থ রানি প্রয়াত হয়েছেন। আর রানির মৃত্যু ও মৃত্যুপরবর্তী সকল আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে যে আয়োজন, সেটিকে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে 'অপারেশন লন্ডন ব্রিজ' নামে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন স্কটল্যান্ডের বালমোরালে। কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ থাকার পর বৃহস্পতিবার তার শারিরীক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। খবর পেয়ে রাজপরিবারের সদস্যরা বালমোরালে যেতে শুরু করেন। শুক্রবার রানির মরদেহ বালমোরাল থেকে লন্ডনে আনা হবে।

জানা যায়, 'অপারেশন লন্ডন ব্রিজ' মূলত একটি প্রোটোকল, যেটি রানির মৃত্যুপরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নির্ধারিত। এর শুরু হয় রানির একান্ত সচিব স্যার এডওয়ার্ড ইয়ং-এর ফোনকলের মাধ্যমে। তিনি যুক্তরাজ্যের সদ্যদায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসকে ফোন করে জানান, 'লন্ডন ব্রিজ ইজ ডাউন'। এরপর প্রধানমন্ত্রী ট্রাস রানির অধীনের ১৫টি রাষ্ট্রকে রানির মৃত্যুর খবর জানান। এর মধ্যে রয়েছে জ্যামাইকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিগিনি, কানাডা এবং বাহামাস। কমনওয়েলথের সদস্য তালিকার আরও ৩৮টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদেরও বিষয়টি জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি-তে একটি অ্যালার্ম স্থাপন করা আছে, যা বিভিন্ন সময় জাতীয় পর্যায়ের জরুরি পরিস্থিতিতে বেজে ওঠে। রানির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেও বেজে ওঠে অ্যালার্মটি। তাৎক্ষণিকভাবে বিবিসি'র লাল রঙের লোগোটি কালো রঙ ধারণ করে এবং সব সংবাদ উপস্থাপকরা কালো পোশাক পরিধান করেন।

ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যের সমস্ত পতাকা অর্ধনমিত করা হয়েছে। রানির মৃত্যুর পরপরই রাজা হিসেবে আসীন হয়েছেন প্রিন্স চার্লস, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন শুক্রবার। রানি হবেন ক্যামিলিয়া। এরপর তারা যুক্তরাজ্যের কয়েকটি স্থানে সফর করবেন। সে সময় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যের জন্য প্রস্তুত হবে ওয়েস্টমিনস্টার হল।

এলিজাবেথের মৃত্যুর চারদিন পর বাকিংহাম প্যালেস থেকে ওয়েস্টমিন্সটার হলের উদ্দেশে শেষকৃত্যের যাত্রা শুরু হবে। দুই সহস্রাধিক অতিথি এতে অংশ নেবেন। মৃত্যুর নয়দিন পর সমাহিত করা হবে রানিকে। স্বামী প্রিন্স ফিলিপ ও বাবা ষষ্ঠ রাজা জর্জের পাশে তাকে সমাহিত করা হতে পারে। এ সকল আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে 'অপারেশন লন্ডন ব্রিজ'।

সূত্র: ফরচুন ডটকম