হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট যেন ‘ভূতের বাড়ি’!

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) ভবনের নির্মাণকাজ চার বছর আগে শেষ হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। উদ্বোধন না হওয়ায় বন্ধ ভবনগুলোতে সন্ধ্যার পরপরই বসছে জুয়া আর মাদকের আসর। অনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, রাতে ক্যাম্পাস জুড়ে এক ধরনের ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ঠিকাদারের কাছ থেকে এটি চার বছর আগেই বুঝে নিয়েছে। অথচ কার্যক্রম শুরু করা তো দূরের কথা, বিশাল বিশাল ভবনগুলো দেখভাল পর্যন্ত করা হচ্ছে না। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) কর্তৃক তিন একর জমির ওপর নির্মিত ছয়টি বহুতল ভবনই এখন অরক্ষিত। দুই বছর আগে আগুনে পুড়ে গেছে বিদ্যুতের সাব স্টেশন। এখন সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা বিদ্যুত্হীন অন্ধকার।

৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রতিষ্ঠানটিতে নষ্ট হচ্ছে শীততাপ নিয়ন্ত্রকসহ নানা যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র। একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হোস্টেল, অফিসার্স কোয়ার্টার, অধ্যক্ষ ভবন, ছাত্র হোস্টেল এবং কর্মচারী কোয়ার্টার—এই ছয়টি বহুতল ভবনই এখন অরক্ষিত। ক্যাম্পাস জুড়ে ঘন আগাছার সৃষ্টি হয়েছে। নাগরনন্দি খালের তীরে ঢাকা-শ্রীনগর-দোহার সড়কের কাছের নান্দনিক পরিবেশের প্রতিষ্ঠানটির লিঙ্ক রোডের সংস্কারও জরুরি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ বিশাল এই ক্যাম্পাসের কোনো খোঁজখবর রাখছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন ইনস্টিটিউট চালু করা গেলে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে টেকনোলজিস্ট সংকটের অবসান ঘটবে। স্বাস্থ্যসেবায় আসবে বিশেষ গতি। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. অমরেন্দ্র সাহা সুদিপ্ত জানান, স্বাস্থ্য বিভাগে টেকনোলজিস্ট পদগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে টেকনোলজিস্টদের সংকট কমবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মধ্য কামারগাঁও (নাগরনন্দি) এলাকায় নির্মিত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ভবনগুলো নানাভাবে নষ্ট হচ্ছে। মূল ফটকে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, ক্যাম্পাস জুড়ে আগাছা। চরানো হচ্ছে গরু-ছাগল। ফটকে শুকানো হচ্ছে জামা-কাপড়। তবে দেখা মেলেনি কোনো নৈশপ্রহরীর। নজরদারির অভাবে বহিরাগত মানুষ খুব সহজেই ক্যাম্পাস ও ভবনে যাতায়াত করতে পারছে। এ সময় লক্ষ্য করা যায়, প্রিন্সিপাল ভবনের গেটে কোনো তালা নেই। দ্বিতল ভবনটির কক্ষের দরজা-জানালা খোলা। কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ ও ময়লা-আবর্জনা এবং খেলার (তাস), কাঁথা-বালিশ। এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যা নামলেই এখানে মাদকসেবিদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। গভীর রাতে শুরু হয় জুয়া, মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এলাকাবাসী বলছেন, প্রতিষ্ঠানটি যদি চালু করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ এর সুফল ভোগ করতে পারবে। এখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হবে। মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। প্রতিষ্ঠানটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্টজনদের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির  ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।  বিশাল এই প্রতিষ্ঠান নির্মিত হওয়ায় পুরো এলাকায় নানা সম্ভাবনা হাতছানি দিয়েছিল। এতদিন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় থাকার কথা ছিল মুখর। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এটি এখন যেন এক ‘ভূতের বাড়ি’।

মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম দাবি করেন, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এর কার্যক্রম শুরু হবে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশনা রয়েছে। সচল করা হলে সব সমস্যা সমাধান হবে বলে তার দাবি। জনবলের অভাবে এটি এতদিন চালু করা যায়নি। এটি চালু হলে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাশের পর রেডিওলজি, ল্যাব, ডেন্টাল ও ফার্মেসি এই চার বিভাগে প্রতি সেশনে ২০০ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে।