চীনে বসবাসকারী মুসলিম জাতিগোষ্ঠী উইঘুরের ওপর ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। চীনকে অভিযুক্ত করে এ সম্পর্কিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। বেইজিং এ প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। এটি প্রশ্চিমা দেশগুলির সাজানো একটি ‘প্রহসন’ মাত্র। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করেছে চীন ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্যদের আটকে রেখে তাদের ওপর যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে।
রায়হান আসাত নামে একজন উইঘুর আইনজীবী যার ভাইকে আটক করা হয়েছে। তিনি প্রতিবেদনটি সম্পর্কে বলেছেন, চীনের ধ্বংসাত্মক ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ এখানে পরিষ্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে। চীনা সরকার বহু বছর ধরে উইঘুরদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করে আসছে। আমরা এখন তাদের দিকে আঙুল তুলে বলতে পারি যে তারা সন্ত্রাসী।
এদিকে তদন্তকারীরা বলেছেন যে তারা উইঘুরের ওপর নির্যাতনের যথেষ্ঠ প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন যা সম্ভবত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তারা সংখ্যালঘুদের অধিকার দমন করার জন্য একটি অস্পষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা এবং "বিধিবহির্ভূতভাবে আটকে রাখার ব্যবস্থা" প্রতিষ্ঠার জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেছে।
এদিকে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি এ প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্বের কারনে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি , প্রতিবেদন থেকে কিছু গুরুতর অভিযোগ মুছে ফেলার জন্য বেইজিং জাতিসংঘকে অনুরোধ করেছে। এ কারনেই তা প্রকাশে দেরি হয়েছে। জার্মানি, জাপান এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি এ প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য জাতিসংঘকে স্বাগত জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা গুলি জাতিসংঘকে অনুরোধ করেছে, এই প্রতিবেদন সংশোধনের জন্য একটি নিরপেক্ষ মানবাধিকার কাউন্সিল গঠন করে তথ্য গুলি পুনরায় খতিয়ে দেখতে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন জানিয়েছেন, চীনকে আটকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলি এসব রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
চীনকে অভিযুক্ত করে জাতিসংঘ ১২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি ‘জিনজিয়াংয়ে সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই: সত্য এবং ঘটনা’ শিরোনামে প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উইঘুর সম্প্রদায়ের ২০ জন প্রাক্তন বন্দীর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের লাঠি দিয়ে মারধর করা হত। এমনকি তাদের মুখে মলমূত্রও প্রবেশ করানো হত। কয়েকজন বন্দী বলেছেন, তাদের নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়। কয়েকজন নারী জানান, কারাগারের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের ওরাল সেক্স করতে বা করতে বাধ্য করা হয়েছে। বন্দীদের সামনেই নারীদের স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করা হত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্ষণ এবং অন্যান্য যৌন নির্যাতনের দাবিগুলির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। উইঘুর এবং অন্যান্য প্রধানত মুসলিম সদস্যদের আটক করে তাদের সঙ্গে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ হচ্ছে। যা মানবতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ। প্রতিবেদনে জিনজিয়াং এর কথিত গণহত্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি। চীন সরকার কত জন মানুষকে আটকে রেখেছে তা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ১০ লাখ বা তার ব্যক্তিকে জিনজিয়াং কারাগারে বন্দী করা হয়েছে। এতে অমুসলিমরাও থাকতে পারে। শিনজিয়ানে প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ উইঘুর মুসলমান বাস করে।
আটক করার বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেইজিং তাদেরকে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাজার হাজার ব্যক্তি এখনও কারাগারে বন্দী রয়েছেন। চীনকে নির্বিচারে গ্রেফতারকৃত সকল মানুষকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।