ভারতের বিপক্ষে এর আগের ১০বারের দেখায় নিজেদের সম্বল বলতে একটি মাত্র ড্র। অথচ সাফ চ্যামপিয়নশিপে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কত অবলীলায় সেই ভারতকে গুড়িয়ে দিলো বাংলাদেশের মেয়েরা।
কৃষ্ণা রানীর ১টি আর সিরাত জাহান স্বপ্নার জোড়া গোলে শক্তিশালী ভারতকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে গ্রুপ সেরা হয়েই সেমিফাইনালে উঠেছে সাবিনারা। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ নেপাল। ভারতের বিপক্ষে এমন জয়ের পর তার পুরো কৃতিত্বটাই মেয়েদের দিলেন বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন।
নেপালের দশরথ রঙ্গশালায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সাফ ওমেন চ্যাম্পিয়নশীপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতকে হরানোর পর বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন মেয়েদের প্রতি নিজের প্রতিজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘মেয়েদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তারা প্রতিজ্ঞা করেছিল ভাল ফুটবল খেলবে। দেশের জন্য ও মা বাবার জন্যই ভাল ফুটবল খেলেছে। বাংলাদেশের নারী ফুটবলে পরিবর্তন এসেছে। এখান থেকেই শুরু হয়ে গেল তাদের জয়যাত্রা।’
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বাংলাদেশের কোচ বলেন, ‘অসাধারণ একটি ম্যাচ খেললো সাবিনারা। তাদেরকে অভিবাদন জানাই। প্রথমবার মেয়েদের জাতীয় দল হারিয়েছে ভারতকে। এটা সম্ভব হয়েছে মেয়েদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে।’
সংবাদ সম্মেলনে আবেগআপ্লুত হয়েই ছোটন বলেন,‘দীর্ঘ পাঁচ বছর মেয়েরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে ক্যাম্প করেছে এই টুর্নামেন্টের জন্য। এটা তাদের সেই ত্যাগের ফসল।’
ভারতের বিপক্ষে জয়ের আত্মবিশ্বাস আগেই জন্মেছিল জানিয়ে বাংলাদেশের কোচ বলেন, ‘মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পরই আমার আত্মবিশ্বাস জন্মেছিলো। মনে হয়েছিল এই মেয়েরা ভারতকে হারাতে পারবে। সেটাই করে দেখিয়েছে তারা। যদিও কেউ কেউ বলেছিলেন কয়েকজনকে বিশ্রামে দিতে। কিন্তু আমি তা দিইনি।’
সাবিনা-সানজিদাদের নিয়ে গবির্ত কোচ বলেন, ‘মেয়েদের ফুটবলের দিন বদলের পালা শুরু হয়ে গেলো এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই। কারণ আমাদের হারানোর কিছু ছিলো না। বড় ম্যাচের চাপটাকে সহজ করে জিতেছে তারা। আপাতত একটি লক্ষ্য পূরন হলো। সামনে এখন শিরোপা জয়ের লক্ষ্য আমাদের।’
এছাড়া নারী ফুটবল নিয়ে বাফুফের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ বলে জানান ছোটন। তিনি বলেন, ‘বয়সভিত্তিক দল থেকে নিয়মিত অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমের ধারাবাহিকতায় আজকের নারী দলের এই সফলতা। যার শুরুটা হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭ ও ১৯ এর এএফসি ও সাফের প্রতিযোগিতা দিয়ে।’