রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু ও চার্লসের রাজা হওয়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের একাধিক শহরে রাজতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এসবের দায়ে একাধিক ব্রিটিশকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারের ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে দেশটির একাধিক মানবাধিকার সংস্থা
সম্প্রতি আন্দোলনের দায়ে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে স্কটল্যান্ডের পুলিশ। একজনকে গ্রেফতার করে পরে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। রানির মৃত্যু ও নতুন রাজার অভিষেকের মধ্যকার সময়ে এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। যদিও লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের দাবি, তাদের আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। এরপরও সোমবার ২২ বছরের ব্রিটিশ যুবকের বিরুদ্ধে শান্তি বিনষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেদিনই রানির কফিন এডিনবারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে লক্ষ্য করে এক যুবক স্লোগান দিচ্ছিল। পরে দুজন ব্যক্তি তাকে টেনে সরিয়ে নিয়ে যায়। এর আগে ২২ বছর বয়সী নারীর বিরুদ্ধে শান্তি বিনষ্টের অভিযোগ আনা হয়।
মঙ্গলবার যখন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মরদেহ স্কটল্যান্ড থেকে লন্ডনের পথে, তার হাজারো ভক্ত যখন রাস্তায় ফুল হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে, তখন অনেকে রাজতন্ত্রবিরোধী প্ল্যাকার্ড হাতেও দাঁড়িয়েছেন। সেন্ট গিলস ক্যাথেড্রেলে রাজার অভিষেক অনুষ্ঠানে ওই রাজতন্ত্র বিরোধী স্লোগান দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের দুজনকেই অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরে তাদের শেরিফ আদালতে হাজির হতে হবে।
একই দিনে সাইমন হিল নামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশকে পাবলিক প্রপার্টি নষ্টের অবিযোগ গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেময় ‘তাকে কে নির্বাচিত করেছে’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। টেমস পুলিশ জানায়, পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যদের স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইনডেক্স অন সেন্সরশিপের প্রধান নির্বাহী রুথ স্মিথ বলেন, এই গ্রেফতারের ঘটনা উদ্বেগজনক। আমাদের অবশ্যই এই আয়োজনের মূল বার্তাকে রক্ষা করতে হবে যেন কোনভাবেই বাকস্বাধীনতার হরণ না হয়।
বিগ ব্রাদার ওয়াচের পরিচালক সিল্কি কারলো বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব ছিল নাগরিকদের আন্দোলন ও বাকস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা। তারা শ্রদ্ধা নিবেদনও করতে পারে, দুঃখপ্রকাশও করতে পারে। এটা তাদের অধিকার।’ লিবার্টির পলিসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইন বিষয়ক কর্মকর্তা জোডি বেক বলেন, পুলিশ এত কঠোরভাবে নিজেদের ক্ষমতা চর্চা করবে বিষয়টি উদ্বেগজনক। আন্দোলন করতে চাওয়া রাষ্ট্রের কোনও উপহার নয়। এটা জনগণের অধিকার।
সোমবার, এক বিক্ষোভকারী একটি প্ল্যাকার্ড হাতে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘নট মাই কিং’ । এরপর তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। লন্ডন পুলিশের দাবি, গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে ওই ব্যক্তিকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।
ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার স্টুয়ার্ট কান্ডি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জনগণের আন্দোলন করার পূর্ণ অধিকার আছে। আমরা সব পুলিশ সদস্যকে বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছি। সামনের সপ্তাহে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। লাখ লাখ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
গ্রেফতারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, এখন আমাদের শোকের সময়। তবে আমাদের গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে আন্দোলনের স্বাধীনতা ও অধিকার।