গত ৫০ বছরেও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রত্যাশিত জায়গায় যেতে পারেনি বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন: গণতান্ত্রিক সুশাসনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য তুলে ধরে টিআইবি।
আজ ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। দিবসটি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।
বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় তা অর্জন করা যায়নি। গত দুটি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি দলের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
আগামী সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলো অংশ না নিলে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে রূপরেখা চূড়ান্ত করতে হবে। যে নামেই নির্বাচনকালীন সরকার হোক, তা স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের স্বপদে থেকে নির্বাচন করার বিষয়টি রহিত করতে হবে।’
রাজনৈতিক, কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ইভিএম ব্যবহারের ঝুঁকির পাশাপাশি সুবিধার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা ইসির উচিত বলে মনে করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে জনমতের প্রতিফলন হয়নি।’
আগামী সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে যে রূপরেখা ইসি তৈরি করেছে, সেটাকে চূড়ান্ত না বলে খসড়া হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।