নকলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ডলি খানম (২২) নামে এক অন্তসত্ত্বা নারীকে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার ঐ নারী বাদী হয়ে ৯ জনের নামে ও ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, নকলা পৌর শহরের কায়দা গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে মো. শফিউল্লাহর সাথে পৈত্রিক জমা জমি নিয়ে তার ভাইদের দীর্ঘদিন যাবত্ বিরোধ চলছিল। গত ১০ মে সকালে কায়দা এলাকার গোরস্থান সংলগ্ন একটি জমির ইরি-বোরো ধান তার ভাইয়েরা জোরপূর্বক কাটতে শুরু করে। এ সময় শফিউল্লাহর স্ত্রী ডলি খানম বাঁধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে টানা-হ্যাচরা করে ক্ষেতের পাশে দুই গাছে দুইহাত ও দুইপা বেঁধে ফেলে। হামলাকারীরা তার যৌনাঙ্গসহ পেট ও বুকে উপর্যুপরি লাথি কিল ঘুষি চালায়। সেই সাথে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ডলি খানমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। এবং ঘটনার সাথে জড়িত আবু সালেহ ও তার ছোট ভাইয়ের বউ লাখী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অপরদিকে নির্যাতনে ডলি খানমের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ৭ দিন চিকিত্সা দেয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২২ মে পর্যন্ত ৭ দিন চলে তার চিকিত্সা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নির্যাতনের কারণে ডলি খানমের অকাল গর্ভপাত ঘটে।
এ ব্যাপারে নির্যাতিতার স্বামীর শফিউল্লাহর অভিযোগ, তিনি ১২ মে নকলা থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ তার মামলা গ্রহণ করেনি। উল্টো তার বিরুদ্ধে ২৩ তারিখে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। ২৪ তারিখে তাকে কোর্টে হাজির করা হলে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।