ইতালির নির্বাচনে ডানপন্থীদের ক্ষমতায় আসার আভাস

গত জুলাই মাসে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির পদত্যাগের পর তার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতন ঘটে। এই পটভূমিতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের নির্বাচন যাকে ইউরোপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যগুলো বলছে, নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল ক্ষমতায় আসতে পারে। আর তা হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই হবে ইতালির প্রথম কট্টর ডানপন্থি সরকার।

ইতালির রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির কথা প্রায়শই শোনা যায়। ফলে ইউরোপের চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির এই দেশটিতে খুব ঘন ঘন সরকারের পতন ঘটে আর একারণে প্রায়ই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ইতালির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আসনা জানায়, রোববারের নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এর মধ্যে ৪৭ লাখ লোক দেশের বাইরে থেকে ভোট প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেশটির ভোটারদের শতকার ৭২ দশমিক নয় ভাগ ভোট প্রদান করেছিলেন। চলতি বছর ভোট দানের হার বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর চলতি নির্বাচনে নতুন ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ।

  • গুরুত্বপুর্ণ প্রার্থী যারা

পার্লামেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র বড় রাজনৈতিক দলগুলো অন্তত দুটি রাজনৈতিক শিবিরে, ডানপান্থি ও বামপন্থি, বিভক্ত হয়েছে।

ডানপন্থি রাজরৈতিক দলগুলোর জোটে তিনটি বড় রাজনৈতিক দলকে দেখা যাচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে জর্জা মেলোনির ব্রাদার্স অব ইতালি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক মাত্তেও সালভিনির নর্দার্ন লিগ এবং আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ডানপন্থী নেতা সিলভিও বারলুসকোনির গো ইতালি।

আর অন্যদিকে আছে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগলোর একটি জোট যার নেতৃত্বে রয়েছে প্রফেসর এনরিকো লেত্তার (Enrico Letta)  ইতালির ডেমোক্রেটিক পার্টি। 

  • ডানপন্থিদের ক্ষমতায় আসার আভাস  

সম্প্রতি সুইডেনের নির্বাচনে ডানপন্থি দল ক্ষমতায় আসে। এ কারনে পশ্চিম ইউরোপের দেশ  ইতালির নির্বাচনের দিকে বাড়তি আগ্রহ বিশ্লেষকদের।

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স অব ইতালি এগিয়ে রয়েছে। ফলে মাত্তেও সালভিনির নর্দার্ন লিগ ও সিলভিও বারলুসকোনির গো ইতালিকে সাথে নিয়ে ডানপন্থি সরকার গঠন করতে পরার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে ।

আর এই জোট জয়ী হলে মেলোনি হবেন ইতালির ইতিহাসে প্রথম কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী। আর দেশটিতে একনায়ক মুসোলিনির পর তিনি হবেন ক্ষমতায় আসা প্রথম কোনো ডানপন্থি নেতা।

নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে দেখা গেছে, মেলোনির ব্রাদার্স অব ইতালি প্রায় ২৫ ভাগ সমর্থন রয়েছে। আর এই জোটের প্রতি শতকরা ৪৮ ভাগ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। তাদের প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী জোটের প্রতি রয়েছে ২৯ ভাগ ভোটারের সমর্থন।

পয়তাল্লিশ বছর বয়সী জর্জিয়া মেলোনি ২০১২ সালে তার দল ব্রাদার্স অব ইতালি গঠন করেন। এর চার বছর আগে ২০০৮ সালে তিনি সিলভিও বেরলুসকোনির সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন। ইতালির ইতিহাসে তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী।

এদিকে মেলোনির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসলে ইতালির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতালিতে শরণার্থীদের সুযোগসুবিধা, সমকামীদের অধিকার এবং গর্ভপাতের আইনি অধিকারের মতো বিষয়গুলো প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।