অস্ত্র নিয়ে নয়, এবার ব্যালটের মাধ্যমে যুদ্ধ করতে হবে : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি; এবার অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ নয়, ব্যালটের মাধ্যমে যুদ্ধ করতে হবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সবাই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল। কারণ, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করা হয়। এক সময় দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিল অবহেলিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেই মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছেন। রাজাকার, আলবদরদের বিচার করেছেন। 

সোমবার সকালে শরীয়তপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সের হল রুমে নবনির্মিত শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের নামফলক উপজেলা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সে সাঁটানো হবে। সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই ডিজাইনে নির্মাণ করা হবে। যাতে একশ বছর পরেও চেনা যায়, এটা একজন মুক্তিযোদ্ধার কবর।

নবনির্মিত শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুক্ত বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা পর্যায়ে ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে ২ লাখ টাকার অধিক খরচ করার ব্যবস্থা করবে সরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তাদের সম্মানি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের জন্য বীর নিবাস তৈরি হচ্ছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট সব মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করা হবে। তাদের সম্মান দিলে দেশ ও জাতি সম্মানিত হয়। নতুন প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। 

জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সাইফুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক সরদার, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ শিকদার প্রমুখ। জানা গেছে, ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সদর ও ২ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জাজিরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে।