দুর্গাপূজায় রাজনৈতিক সমাবেশ করতে দেবে না পুলিশ

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপে নিরাপত্তা প্রদানের স্বার্থে দুর্গাপূজায় রাজনৈতিক সমাবেশ করতে দলীয় আবেদন ফেরত দিচ্ছে পুলিশ। পুলিশের অনেক সদস্য পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকবেন। এ কারণে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর অনুষ্ঠান পালনের আবেদন। 

এদিকে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই পূজা উৎসবের সময়েও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছে। কিন্তু পুলিশ সর্বজনীন এই উৎসবের সময়ে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিচ্ছে না। কারণ হিসেবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দুর্গাপূজা উৎসবে নিরাপত্তা দিতে অনেক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির নিরাপত্তা দেওয়া কষ্টকর হবে। এ কারণে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কেউ দলীয় কর্মী সেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা শনাক্ত করা কষ্টকর হবে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডিআইজি (অপারেশন) আলী আহমেদ খান বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ধরনের বিচ্যুতি হবে না। সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থায় আছে পুলিশ। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রুখে দিতে পুলিশ প্রস্তুত। দুর্গাপূজার সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশ করতে চাওয়া কারোর উচিত নয়।

এদিকে একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, দুর্গাপূজার সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশের নামে নাশকতা ঘটানো হতে পারে। তাই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুর্গাপূজার সময়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া উচিত নয়। জানা গেছে, প্রত্যেক মণ্ডপে পোশাকধারী পুলিশের বাইরে একজন কিংবা দুজন করে গোয়েন্দা সদস্য থাকবেন। সর্বোচ্চ দুটি মণ্ডপ ঘিরে এক জন অফিসারের নেতৃত্বে মোবাইল টিম থাকবে। ঐ গোয়েন্দা সদস্য ও এবং অফিসার পরস্পর সমন্বয় করবেন। মণ্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও টহলের দায়িত্বে থাকা অফিসার সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন ও পূজা-পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সব পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেকটর ও আর্চওয়ে গেট স্থাপন, পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা করা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর/চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা, আজান ও নামাজের সময় উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার না করার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে পুলিশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে।