ফেনীতে বিড়াল প্রদর্শনী ও র‍্যাম্প শো

ফেনী এনিম্যাল লাভার্স এর আয়োজনে দেশি-বিদেশি বিড়াল প্রদর্শনী ও র‍্যাম্প শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার শহরের নবীনচন্দ্র সেন কালচারাল সেন্টারে এ আয়োজন হয়।

আয়োজক সূত্র জানায়, প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ২৫টি বিড়াল প্রদর্শিত হয়। যার মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণের জন্য বিড়ালের ‘র‍্যাম্প শো’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিনামূল্যে প্রাণীর ভেটেরিনারি চিকিৎসা সেবাও প্রদান করা হয়।

ব্যতিক্রম আয়োজনের প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী আহসান জোবায়ের বলেন, ‘এমন আয়োজন ফেনীর জন্য নতুন একটা মাইলফলক। রাজধানী ঢাকায় বা অন্য কোনো জেলায় এরকম স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমী আয়োজন হয় বলে আমার জানা নেই। দারুণ এই আয়োজন দেখতে ছোটবোনসহ চলে এসেছি। আশাকরি ফেনীতে এমন আয়োজন আরও হবে। আমরা পশু ও প্রাণীর প্রতি সদয় হবো। ফেনীর এই আয়োজন সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে।’

309539971_1279964389496936_6171813573422091583_n

ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তারান্নুম আক্তার বলেন, প্রদর্শনীতে ৪টা বিড়াল নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে একটি বিদেশি জাতের। বিড়াল পালনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এ শিক্ষার্থী বলেন, শুরুতে পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। সময়ের সাথে সাথে এখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।

সানজিদ আরেফিন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মফস্বলে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাণীদের প্রতি অহিংস্র মনোভাব তৈরি হবে। আয়োজনস্থলে অনেক গরম ছিলো। এতে বিড়াল নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আগামীতে বাইরে আরও বড় জায়গা এমন আয়োজন করলে সাধারণ মানুষও এ বিষয়ে জানতে পারবে।’

309704868_634626851627400_3203398657169771309_n

অনুষ্ঠান আয়োজক ও ফেনী এনিম্যাল লাভার্স’র সিইও সাইমুন ফারাবী বলেন, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে এবং মানুষের ভালোবাসা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ব্যতিক্রম আয়োজন। এর আগে রাজধানী বা বিভাগীয় শহরগুলোতে এমন আয়োজন হলেও মফস্বলের জন্য এটি অনেক বড় প্রাপ্তির বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে পরিমাণ দর্শনার্থী সমাগম আশা করেছিলাম তারচেয়ে তিনগুণ বেশি হয়েছে। সহযোগিতা পেলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার কথা জানান এ তরুণ প্রাণীপ্রেমী।

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের ফি ও খরচ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সকলের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত ছিল। এখানে ১০ টাকা দামের একটি র‍্যাফেল বিক্রি করা হয়েছে। এখান থেকে ৬০ শতাংশ ভ্রাম্যমাণ অসুস্থ কুকুর-বিড়ালের চিকিৎসায় খরচ করা হবে। বাকী ৪০ শতাংশ অনুষ্ঠানের খরচে ব্যবহৃত হবে।’