ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন কাপড় ও নগদ অর্থ পেলেন অম্বিকা

দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে ১ অক্টোবর ‘নেই দুর্গা পূজার আনন্দ, কিনতে পারেনি নতুন কাপড়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও সৃজন সামাজিক সংগঠনের নজরে আসে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনটি তারা গুরুত্বের সঙ্গে নেন।

রোববার (২ অক্টোবর) বিকালে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কার্ত্তিক চন্দ্র সরকার ও সাধারণ সম্পাদক ভারত চন্দ্র রায় অম্বিকা বর্মনীর বাড়ীতে গিয়ে নতুন কাপড় ও নগদ অর্থ উপহার দেন। তাছাড়া নারায়ণ চন্দ্র রায় নামের এক ব্যক্তি অম্বিকা বর্মনীকে এক বস্তা চাল উপহার দেন।

এদিকে সোমবার সকালে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাছেন আলী ইত্তেফাক সংবাদদাতাকে সঙ্গে নিয়ে অম্বিকা বর্মনীর বাড়ীতে গিয়ে তার খোঁজ খবর নিয়ে পূজা উপলক্ষে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এ সময় এলাকার প্রতিবেশীদের উপস্থিতে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা অম্বিকা বর্মনীকে সরকারি পাকা ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

চেয়ারম্যান হাছেন আলী বলেন, তার বিষয়ে আমি ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, সামনের অর্থ বছরে পাকা ঘরের বরাদ্দ আসলে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রথম ঘরটি তাকে দেওয়া হবে।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সৃজন সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাদিরুজ্জামান মিয়া সিমু অম্বিকা বর্মনীর বাড়ী গিয়ে নতুন কাপড়, চাল, ডাল, সবজিসহ নগদ অর্থ প্রদান করেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধা অম্বিকা বর্মনীর ভাঙ্গা ও জরাজীর্ণ টিনসেটের ঘরটি ভেঙ্গে আগামী (৯ অক্টোবর) রোববার নতুন টিন ও কাঠ দিয়ে মেরামত করে দিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।  

নতুন কাপড় চাল-ডাল ও অর্থসহ ভাঙ্গা ঘরটি নতুনভাবে মেরামত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে অম্বিকা বর্মনী খুশি হন। এই দুঃখের দিনে এসব উপহার পেয়ে চেয়ারম্যান হাছেন আলী, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সৃজন সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকে অসহায় বৃদ্ধা অম্বিকা বর্মনী কান্নাজড়িত কন্ঠে সবাইকে আর্শীবাদ করেন এবং সবার মঙ্গল কামনা করেন।

এ রকম একটি মানবিক স্বচিত্র প্রতিবেদন গণমাধ্যমে তুলে ধরায় চেয়ারম্যান হাছেন আলী, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সৃজন সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ ওই এলাকার মানুজন ইত্তেফাকের ফুলবাড়ী উপজেলা সংবাদদাতা অনিল চন্দ্র রায়কে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
 
বৃদ্ধা অম্বিকা বর্মনীর বাড়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা গ্রামে। তিনি ঐ এলাকার মৃত শিতিষ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী।