পৃথিবীর বেশির ভাগ প্রাণী শুধু ক্ষুধা নিবারণের জন্য খায়। কিন্তু মানুষ একইসঙ্গে খাবারের স্বাদ নেয়, ক্ষুধা নিবারণ করে, আড্ডায় বসার জন্য খাবারের আয়োজন করে এবং খাবারের মাধ্যমে জাতিগত বৈশিষ্ট্যও প্রদর্শন করে। খাবার গ্রহণের এই বৈচিত্র্যই মানুষের মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে কাজের বিভিন্নতা সৃষ্টিতে। বাঘ যেমন শিকার ধরে খেতে পছন্দ করে তেমনি সারস পাখি একটা মাছ গিলে খায় আবার শালিক খায় ঠুকিয়ে ঠুকিয়ে, তেমনি তৃণভোজীরা খায় মচমচ করে। তারা আবার জাবরও কাটে। একমাত্র মানুষই মাংস, শাকপাতা, মসলা, মাছ, দুধ প্রায় সব ধরনের খাবার খায়।
খুব স্বাভাবিক অর্থেই এ কারণে মানুষ শিকারি, নমনীয় আবার কখনো কখনো হিংস্র! তবে বুদ্ধি এবং মস্তিষ্কের গঠনের অসামান্যতার কারণে মানুষের বিবেককে প্রসারিত করা হয়েছে। মানুষ বুঝতে পারে কোনটা করা ঠিক এবং কোনটা করা বেঠিক। এর ফলে মানুষ স্থির থাকতে পারে। সে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা অর্জন করে।
বর্তমান সময়ে মানুষের আচরণ অন্যরকম হয়ে উঠছে। সব ধরনের অপরাধ বাড়ছে। সম্পর্ক স্থাপন এবং মানুষের মধ্যে নির্যাতনের প্রবণতায় পশুত্বকেও হার মানাচ্ছে! মানুষের চোখ এবং কথার পার্থক্য অনেক। বিবেকহীন কাজ করতে একটুও দ্বিধা করছে না। তবে কি বলা যায় খাবার এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সামগ্রিক জৈব বিক্রিয়া মানুষকে অস্থির করে তুলছে। যে এলাকাগুলো অর্থনৈতিকভাবে বেশি স্বাধীন সেখানকার মানুষ আরো বেশি অস্থির! বিবেকহীনতা সৃষ্টির পেছনেও কোনো খাবার দায়ী কি না সেটাও কিন্তু একটা গবেষণার বিষয়। কারণটা স্পষ্ট। আমরা বেশি মাংস জাতীয় খাবার খাচ্ছি, ফাস্ট ফুড খাচ্ছি, গরম খাবার খাবারের তালিকায় বেশি যুক্ত হচ্ছে, কেউ অ্যালকোহলিক আবার কেউ কোমল পানীয় বেশি খাচ্ছে! নিশ্চয়ই এই খাবারগুলো মস্তিষ্কের কোনো একটা অংশের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পরিবেশীয় ও জলবায়ু পরিবর্তন। সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার ঘুম কমিয়ে দিয়ে মানুষকে করে তুলছে আরো বেশি মনস্তাত্ত্বিক রোগী!
গবেষণা করলে স্পষ্টই দেখা যায় অপেক্ষাকৃত শীতল ও কলকারখানা ছাড়া অঞ্চলগুলোতে অপরাধ প্রবণতা এবং অস্থিরতা কম। এমনও হতে পারে আমাদের সামগ্রিক দূষণ ও উচ্চ শব্দ এবং সবসময় আলোতে থাকার কারণে আমাদের মধ্যে একধরনের উত্তেজনা বাড়ছে যাতে করে আমরা হয়ে উঠছি একেকজন নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশনে সৃষ্টি হওয়া ধ্বংসহীন চিন্তার আলাদা সংকরিত প্রভাবক! মানুষের অস্থিরতা বাড়ছে, অপরাধ বাড়ছে। মস্তিষ্ক ভালো রাখতে সুস্থ পরিবেশ দরকার, অস্থিরতা কমাতে ভালো চিন্তা দরকার। আর সবকিছুর জন্য দরকার সঠিক ঘুম, অর্থনৈতিক চিন্তার বিপরীতে নিজেকে সুখী ভাবা এবং সুস্থ পরিবেশে জীবন কাটানো। তবে সময়ের দাবি হলো অতিরিক্ত আলো, অতিরিক্ত শব্দ এবং অতিরিক্ত দূষক খাবার বন্ধ করতে পরিবেশের ওপরই জোর দিয়ে তাকে সুস্থতা দেওয়া। এ কথা বোঝার জন্য কেউ কি আমাদের কথা শুনবে?
গাজীপুর