থাইল্যান্ডের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বন্দুক মালিকানার নিয়ম কঠোর করতে ও মাদকের ব্যবহার বন্ধ করার আদেশ দিয়েছেন । সোমবার (১০ অক্টোবর) এ আদেশ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) ব্যাংকক থেকে ৫০০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বের শহর উথাই সাওয়ানের একটি ডে কেয়ার সেন্টারে ছুরি, পিস্তল ও শটগান নিয়ে হামলা চালায় মাদকাসক্তির কারণে বরখাস্ত হওয়া এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। এই হামলায় ২৪ শিশুসহ মোট ৩৬ জন নিহত হয়। তার স্ত্রী ও সৎ ছেলেকে খুন করার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন।
থাইল্যান্ড সরকারের মুখপাত্র আনুচা বুরাপাচাইশ্রি এক বিবৃতিতে জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ কর্তৃপক্ষগুলোকে সম্প্রদায় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অবৈধ মাদকের ব্যবহার ভালোভাবে পরীক্ষা ও তল্লাশি করে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন।
লাইন্সেস করা বন্দুকের যেসব মালিক ‘সমাজকে হুমকি’ দেওয়ার মতো আচরণ করে এবং ‘বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি করে’ তাদের অস্ত্র রাখার অনুমতি বাতিল করার জন্য সরকারি রেজিষ্ট্রারদের নির্দেশ দিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী।
এর পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র বিক্রি, অস্ত্রের চোরাকারবার ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
যে পদাধিকারীরা ও পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের অগ্নেয়াস্ত্রের অপব্যবহার করেছে অথবা দায়িত্ব পালন করার সময় আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে থাই কর্তৃপক্ষ।
দেশটির পুলিশ প্রধান জেনারেল দামরংসাক কিত্তিপ্রপাস সাংবাদিকদের জানান, বন্দুকের মালিক ও মালিকানার জন্য লাইসেন্সের আবেদন করা সবার নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষারও প্রয়োজন হবে।