সুখী, সমৃদ্ধ ও প্রগতীশীল সমাজ গড়তে শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের শিশু-কেন্দ্রিক বাজেটে ৮০ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় যা বেড়েছে ১৪ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। অর্থ্যাত্ ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল ‘বিকশিত শিশু : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা যায়।
বাজেট ডকুমেন্টের সঙ্গে শিশু-কেন্দ্রিক বাজেট পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা আলাদা কোনো বরাদ্দ নয়। মূলত বাজেটের কত অংশ শিশুদের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে তার পৃথক একটি বিভাজন দেওয়া হয়েছে এ প্রতিবেদনে। ১৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের তথ্য নিয়ে ‘বিকশিত শিশু : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শিরোনামে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিশু-কেন্দ্রিক বাজেট ছিল ৬৫ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। যা বিগত বছরের তুলনায় ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। এছাড়াও ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের জাতীয় বাজেটের তুলনায় শিশু-কেন্দ্রীক বাজেট প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ হয়েছে। এ বাজেটে শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন, সংস্কৃতি, শিশুশ্রমসহ শিশুদের নানাবিধ অধিকার গুরত্ব পাবে।
এদিকে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাঁচটি মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বপ্রথম শিশু-কেন্দ্রিক বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সাতটি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৩টি এবং ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করে এ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও আইন ও বিচার বিভাগ।
এ বাজেটের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো সাতটি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে— শিশু ও তাদের পরিবারের মৌলিক সেবা প্রদান, নারীর ক্ষমতায়নে উত্সাহিতকরণ, শিশুর যত্নকারীদের বিশেষ সহায়তা, প্রতিবন্ধী, অনাথ ও পথশিশুদের অধিকার, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ নিরসন, শিশুর দেখাশোনাকারীদের কর্মসংস্থান ও শিশুদের জীবিকা অর্জনের দক্ষতা বৃদ্ধি।