বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার প্রধানের কৃপা কিংবা ক্রোধের ওপরই দেশ শাসিত হচ্ছে। দেশের ও তার নিজের দলের প্রকৃত অপরাধীদের তিনি কৃপা করছেন, আর সমালোচনাকারীদের পরিণতি হচ্ছে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ কিংবা অন্য কোনো ভয়ানক পরিণতি। বেগম খালেদা জিয়াকে দুই কোটি টাকার মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অথচ বর্তমান সময়ে প্রতি বছর লাখো কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে এবং সেই টাকা পাচার হচ্ছে। তারা সরকারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। এরাই বিগত ১৩-১৪ বছর ধরে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। এদেরকে প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন আইন করে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি।
বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। রুহুল কবির রিজভী বলেন, কয়েকদিন ধরে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আবারও নিয়ে যাবার হুমকি দিচ্ছেন মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস। এতে প্রমাণিত হলো খালেদা জিয়া ইতিহাসের চরমতম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারারুদ্ধ। আইন আদালত যে সরকারের ইশারায় চলে-সেই সত্য নিজেদের মুখেই স্বীকার করেছেন হাছান মাহমুদ ও ব্যারিস্টার তাপস। এতেই বোঝা যায়, বিচারক ও আদালত সর্বোপরি প্রশাসন আওয়ামী লীগের তল্পিবাহকের ভূমিকা পালন করেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। সভা-সমাবেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন যেভাবে তৃণমূলের উত্থান হয়েছে, তাতে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। জনসভাগুলোতে মানুষ আসছে বানের মতো। কণ্ঠে তাদের হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার আত্মপ্রত্যয়ের আওয়াজ। সরকারের নেতারা ক্ষমতা হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম হয়ে গেছেন। সরকারের পতনের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে দিগদিগন্তে।
রিজভী বলেন, বিপুল জনসমাগম দেখে তারা উন্মাদ হয়ে পড়েছেন। গণতন্ত্রকামী লাখো জনতার উত্তাল স্রোতে এই বুঝি গণভবনে ঢুকে পড়ল-এমন দুঃস্বপ্ন প্রতি মুহূর্তে মনে হয় তাদের তাড়া করছে। জনতার দুর্বার আন্দোলনের কথা শুনে হিংস্র হয়ে উঠেছেন তারা।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ভীরু ও কাপুরুষের দল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রটেকশনে গুণ্ডা ও সন্ত্রাসীরা বাহাদুরি দেখায়। প্রকৃত সাহসী ও বীরদের কখনোই ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার নজির নেই সারা দুনিয়ায়। যারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশকে ধ্বংস করতে দ্বিধা করে না, তারাই রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও দলীয় গুন্ডাপান্ডাকে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে লেলিয়ে দেয়। সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও জনগণকে কাবু করা যায় না। চট্টগ্রামে সমাবেশের সফলতায় সেটিরই প্রমাণ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিবউন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।