নতুন ভ্যাটে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা, তবু বাড়ছে ভোক্তা ব্যয়

অবশেষে আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে নতুন ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক) আইন। ২০১২ সালে পাস হওয়ার পর আট বছর শেষে তা কার্যকর হতে যাচ্ছে। আইনটি বাস্তবায়নের আগে অর্থমন্ত্রী বারবার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, নতুন ভ্যাটের কারণে পণ্যমূল্য বাড়বে না। বাজেটে ভ্যাটের বাস্তবায়নের রূপরেখায় তিনি তা উল্লেখও করেছেন। ভ্যাটের অব্যাহতির তালিকা তিনি অপরিবর্তিত রেখেছেন। হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট প্রদানকারী বিভিন্ন পণ্য সেবা খাত থেকে কম হারেই ভ্যাট নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তা সত্ত্বেও নতুন ভ্যাট আইনটি বাস্তবায়ন পর্যায়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে। নতুন আইনে ১৫ শতাংশ ছাড়াও ১০ শতাংশ, সাড়ে ৭ ও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হবে। এছাড়া ওষুধ ও কিছু স্পর্শকাতর পণ্যে ২ ও আড়াই শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় হবে। এর বাইরে কিছু পণ্যে ট্যারিফের আদলে পরিমাপভিত্তিক কিছু পণ্যে ‘স্পেসিফিক ট্যাক্স’ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় হবে।

অর্থ বিল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ট্যারিফ ভিত্তিতে ভ্যাট প্রদানকারী বেশকিছু পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় হবে। ফলে এসব পণ্য ও সেবার ব্যয় বেড়ে যাবে। অন্যদিকে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদানকারী বেশকিছু পণ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হবে। এসব পণ্যের ব্যয়ও বাড়বে। এছাড়া যেসব পণ্যে স্পেসিফিক ট্যাক্স ভিত্তিতে ভ্যাট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেখানেও ভ্যাটের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া বেশকিছু পণ্য ও সেবায় সম্পূরক শুল্ক বেড়েছে। ফলে এসব ভোক্তা পর্যায়েও এসব পণ্যের ব্যয় বাড়বে। মোবাইল ফোনের সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে ১৬ কোটি সিম ব্যবহারকারীর কথা বলা, এসএমএস ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় বেড়ে যাবে। ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ মিলিয়ে পৌনে ২২ শতাংশ ব্যয় করতে হলেও তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৭ শতাংশ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কোটি কোটি গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ কর্তন শুরু হয়েছে। বহুল ব্যবহার হওয়া স্টিল ও রডের ‘স্পেসিফিক ট্যাক্স’ ৯০০ টাকার স্থলে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে সব ধরনের স্টিল ও রড জাতীয় পণ্যের দর বাড়বে। ফলে অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় বেড়ে যাবে। এ তালিকায় আরো রয়েছে, নিউজপ্রিন্ট, ইট, ছিদ্রবিশিষ্ট ইট, সব ধরনের বিলেট, ইনগট ও এমএস রড বা এ জাতীয় পণ্য। এছাড়া সিম কার্ড সরবরাহকারীও রয়েছে। তামাকপণ্যের মূল্যস্তরে পরিবর্তন আনায় এসব পণ্যের ব্যয়ও বাড়বে। এছাড়া বেশকিছু পণ্যে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোয় এসব পণ্যের দাম বাড়বে। এ তালিকায় রয়েছে আইসক্রিম, হেলিকপ্টার ও বিমানসেবা, গাড়ির নিবন্ধন, রুট পারমিট, ফিটনেস সনদ, মালিকানা সনদ গ্রহণ ও নবায়নসংক্রান্ত সেবা। ব্যয় বাড়ার তালিকায় রয়েছে ডুপ্লেক্স বোর্ড বা কোটেড পেপার, সিগারেট বা বিড়ির পেপার, সিমপ্লেক্স, প্যাকিং ও কালারড পেপার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, নির্মাণ সংস্থা, আসবাবপত্র উত্পাদনকারী, জোগানদার, নিলামকৃত পণ্যের ক্রেতা, বিনোদন ও থিম পার্ক, পোশাক বিক্রয়, সোশ্যাল মিডিয়া ও ভার্চুয়াল ব্যবসায়ের ভ্যাটের হার আগের চেয়ে বেড়েছে। এছাড়া ২০ ধরনের পণ্য ও সেবায় ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় হবে।