‘শাহেদের মামলার অভিযোগপত্রের সঙ্গে বাস্তবের বিস্তর ফারাক’

আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ও অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ শাহেদের পরিবার বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডায় তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ শাহেদের বিরুদ্ধে দেওয়া একাধিক মামলার চার্জশিটের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের বিস্তর ফারাক রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহেদের ভাই আবদুল্লাহ আল আমান ও তার বোন নাসরিন সিদ্দিকী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহেদের ভাই আবদুল্লাহ আল আমান বলেন, বাংলাদেশে যে সময়ে কোভিড-১৯ বিশ্বের অন্যদেশগুলোর মতই মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়ে তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারের একাধিক মন্ত্রীর মৌখিক অনুরোধে রিজেন্ট হাসপাতাল সরকারকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে। রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় করোনা রোগী রাখার সিদ্ধান্ত হয় এবং রিজেন্ট হাসপাতালই প্রথম করোনা রোগী ভর্তি করে। ওই সময় রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা ছিল না। ২০২০ সালের ২১ মার্চ লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ শাহেদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচক আবুল কালাম আজাদের মধ্যে লিখিত চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী রিজেন্ট হাসপাতাল করোনা রোগী গ্রহণ করে। ওই সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয় পরবর্তী যে কোন সময়ে হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করে নিতে। সে অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স নবায়ন করতে সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বলা হয় তিনি করোনা রোগীর ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট দিয়েছেন এবং রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট হিসেবে দশজন রোগীর নাম মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে যে দশজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সবার করোনা টেস্ট রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে নিপসম (ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোস্যাল মেডিসিন) থেকে। নিপসমের ওয়েবসাইটে তাদের টেস্ট রিপোর্ট এখনও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শাহেদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তার প্রমাণ সরকারি ওয়েবসাইট।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, করোনা পরীক্ষা করার জন্য শাহেদ কোন রোগীর কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে এমন অভিযোগ কোন ব্যক্তি করেননি। মামলার অভিযোগপত্রে এই ধরনের অভিযোগও নেই। তারপরও প্রচার করা হচ্ছে যে মোহাম্মাদ শাহেদ করোনা পরীক্ষার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগ রিজেন্ট হাসপাতাল কোনো বিল দেয়নি। তাই শাহেদের বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে, তার সবই অপপ্রচার।