শিবচরে ইলিশ শিকারের দায়ে ১২ জনের জেল

মাদারীপুরের শিবচরে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মায় ইলিশ মাছ শিকারের দায়ে ১২ জেলেকে ২০ দিনের জেল এবং ২ জেলেসহ ১ জন ক্রেতাকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং জব্দকৃত ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন-দেলোয়ার মল্লিক (৪০), মো. আক্তার (২০), আরিফ মোল্লা (২০), মোহাম্মদ বাবলু (২০), মোস্তফা মৃধা (৪০), রাজা মোল্লা (৬০), জাকির হোসেন (২২), জুয়েল কারাল(৩০), রুবেল (২৫), জাফর হোসেন (২০), মনির হোসেন (২০), রাকিব (২০), মাহবুব মৃধা(১৭), মো. শাহাদাত (১৪) ও ইলিশ মাছ ক্রেতা মতিউর রহমান (৪৫) । 

শিবচর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌপুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর পাঁচটা থেকে দুপুর পর্যন্ত সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস ইবনে রহিম ও চরজানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহানুর আলীর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। পরে গ্রাম পুলিশরা মাদবরচর হাট থেকে ইলিশ মাছসহ এক ক্রেতাকে আটক করে। পরে এক ক্রেতাসহ ১৪ জন জেলেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিবুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১২ জন জেলেকে ২০ দিনের জেল হাজতে প্রেরণ করে ও বাকি ২ জন জেলেকে ৫ হাজার টাকা এবং এক ক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। 

চরজানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহানুর আলী বলেন, আজ ভোর পাঁচটা থেকে দুপুর পর্যন্ত শিবচর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস ইবনে রহিম ও আমার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। পরে তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিবুল ইসলাম স্যারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিবুল ইসলাম বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ৬ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই কয়দিন পদ্মা নদীর মাদারীপুরের শিবচর অংশ প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। পদ্মায় যেনো কোন জেলে মাছ ধরতে না নামে সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার সকলকে সর্তক করা হয়েছে। আজ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১২ জন জেলেকে ২০ দিনের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি ২ জন জেলেকে ৫ হাজার টাকা এবং এক ক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।