রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পি সোয়েমারনোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নগরভবনের মেয়র দপ্তর কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাজশাহীতে শিক্ষা, কৃষি ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত। এ জন্য ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাসিক মেয়র।
এদিকে বৈঠক শেষে নগরভবনের বঙ্গবন্ধুর কর্নার ঘুরে দেখেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পি সোয়েমারনো। সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন রাষ্ট্রদূতকে বঙ্গবন্ধু কর্নার ঘুরে দেখান। বঙ্গবন্ধু কর্নার পরিদর্শন শেষে পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিখেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত।
আরও পড়ুন: শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ৪১ হাজার ২২২ কোটি টাকা
সফরসূচি অনুয়ায়ী ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পি সোয়েমারনো নগরভবনে আসলে তাকে বরণ করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। এরপর মেয়র দপ্তরকক্ষে সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে বৈঠকে মিলিত হন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত। পরে বৈঠক শেষে নগরভবনের সিটি হলরুমে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেয়র ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত। এসময় রিনা পি সোয়েমারনো বলেন, ‘এটি আমার প্রথম রাজশাহী সফর। এখানকার চমৎকার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ। এখানকার মানুষদের ভালো লেগেছে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রাজশাহী কমপ্লিট সিটি। অন্য যেকোন শহরের তুলনায় আলাদা সিটি। শিক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রে রাজশাহীর পরিবেশ চমৎকার। রাজশাহীর সাথে ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষা ও কৃষি ছাড়াও তথ্য-প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে পারস্পারিক সম্পর্ক উন্নয়ন হবে। রাজশাহী এবং ইন্দোনেশিয়ার গুরত্বপূর্ণ সিটির মধ্যে বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক গড়ে উঠবে।’
এ সময় রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ইন্দোনেশিয়া আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত দীর্ঘ বৈঠকে রাজশাহীর শিক্ষা, কৃষি ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার রাজস্বের ২৫ শতাংশ আসে ট্যুরিজম থেকে। রাজশাহীতে ট্যুরিজম উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইন্দোনিশয়ার রাষ্ট্রদূত।
মেয়র বলেন, ইন্দোনেশিয়ার যেকোন গুরুত্বপূর্ণ একটি সিটির সাথে রাসিকের সর্ম্পক উন্নয়ন ও পারস্পারিক সহযোগিতার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে। এতে দুই সিটির মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় হতে পারে। বাংলাদেশের ছাত্র-শিক্ষকেরা ইন্দোনেশিয়ায় যাবেন,
ইন্দোনেশিয়ার ছাত্র-শিক্ষকেরা এখানে আসবেন। বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত। রাজশাহী সিল্কের প্রতিও ইন্দোনেশিয়ার অনেক আগ্রহ রয়েছে। আমরা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যদি সিল্ক সরবরাহ করতে পারি, তাহলে তারা নেবেন।
এ সময় রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু, প্যানেল মেয়র-২ ও ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজব আলী, সচিব রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহানা আখতার জাহান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার খায়রুল বাশার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, মেয়রের একান্ত সচিব আলমগীর হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এমআরএম