চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস-সংকট

চট্টগ্রাম আবার গ্যাস-সংকটের কবলে পড়েছে। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় অক্টোবরের শুরু থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কমতে থাকে। দৈনিক প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে গতকাল ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ পাওয়া গেছে। সরবরাহ লাইনে চাপ কমে যাওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রান্না নিয়ে আবাসিক গ্রাহকরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। ফলে চট্টগ্রামেও কমেছে সরবরাহ।

চট্টগ্রামে গ্যাস-সংকটের বিষয়টি অনেক পুরোনো। গ্যাস-সংকটের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রামে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। গ্যাসের বিপুল চাহিদা রয়েছে সার কারখানা কাফকো ও সিইউএফএল। মাঝে মেরামতকাজের জন্য সিইউএফএল বন্ধ ছিল। গতকাল শনিবার থেকে সিইউএফএল চালু করা হয়েছে। তবে প্রথম ধাপে পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারে না। গতকাল ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নিয়েছেন তারা। 

জানতে চাইলে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ খান বলেন, এত দিন মেরামতকাজের জন্য উৎপাদন বন্ধ ছিল। এখন উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু করেছি। বর্তমান গতিতে উৎপাদন আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। ২০ তারিখের পর আমরা পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারব। তখন দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে।’ এছাড়া গতকাল থেকে মেরামতকাজের জন্য কাফকোর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। 

অন্যদিকে গ্যাস-সংকটে চট্টগ্রামে গ্যাসনির্ভর চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে তিনটি ইউনিট বন্ধ ছিল। শুধু রাউজানের একটি ইউনিট চালু ছিল। এখন রাউজানের দুটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। শিকলবাহায় গ্যাসনির্ভর দুটি ইউনিটের মধ্যে ২২৫ মেগাওয়াটের ইউনিট চালু করা হয়েছে।  এই ইউনিটের জন্য দৈনিক ৩৫ থেকে ৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শিকলবাহায় ১৫০ মেগাওয়াটের ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য গ্রাহকের জন্য দৈনিক ২০০ মিলিয়ন গ্যাসের চাহিদা থাকে। সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকলে দৈনিক প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে। 

চট্টগ্রামে মহেষখালী টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে এতদিন দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হতো।  গত  প্রায় দেড় মাস যাবৎ এলএনজি সরবরাহ ৩৮০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। তাই চট্টগ্রামে সরবরাহ কমে গেছে। বাকি এলএনজি জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন গ্যাস বিপণন কোম্পানির জন্য দৈনিক গ্যাস সরবরাহের বরাদ্দ নির্ধারণ করেছেন পেট্রোবাংলা। সেই হিসেবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির জন্য চাহিদা বিবেচনায় দৈনিক ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু গতকাল শনিবার কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি প্রায় ২০০ মিলিয়ন গ্যাস বরাদ্দ পেয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির আওতায় মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড থেকে শুরু করে রাউজান, পটিয়া ও আনোয়ারা পর্যন্ত গ্যাস বিতরণ লাইন রয়েছে। মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড এলাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে অসংখ্য ছোটবড় শিল্পকারখানা রয়েছে। মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড বাদ দিলে শুধু চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট বরাদ্দের ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে গতকাল ১৬২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে।

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানিতে সব মিলিয়ে ৬ লাখ ২ হাজার ৩৭৫টি গ্যাস-সংযোগ রয়েছে। তার মধ্যে আবাসিক সংযোগ রয়েছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার, শিল্পে ১ হাজার ১৮১টি, ক্যাপটিভ পাওয়ার ২০১টি, বাণিজ্যিক ২ হাজার ৯১১টি ও সিএনজি ৭০টি। বাকিগুলো অন্যান্য খাতে সংযোগ। এদের মধ্যে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রচুর গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। গ্যাস-সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দৈনিক ৫/৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। গতকাল শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনে চাপ কমে যাওয়ায় দিনের বেলায় রান্নার চুলা জ্বলছে মিটমিট করে।