গোপালগঞ্জে থেকে উদ্ধার করা বিরল প্রজাতির ৪টি গন্ধগোকুল সাবককে খুলনা বন্যপ্রাণী রক্ষা,উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ফরেস্টার ও ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান খুলনা বন্যপ্রাণী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ফরেস্টার মো. মামুন-অর-রশীদের কাছে এসব প্রাণী হস্তান্তর করেন। এ সময় ওই কেন্দ্রের আরো ৫ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ফরেস্টার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বুধবার বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর মধ্যপাড়া গ্রামের ডাঙ্গার মধ্যে একটি তাল গাছের পাতা কাটতে ওঠে অপূর্ব নামে এক কিশোর। সেখানে উঠার পর সাবক গুলোর মা তাল গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যায়। পরে অপূর্ব ওই তাল গাছ থেকে চারটি গন্ধগোকুলের সাবক নিচে নামিয়ে আনে। সাবকগুলো দেখতে স্থানীয়রা ভিড় জমায়। খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চাগুলো উদ্ধার করি। এরপর খুলনা বন্যপ্রাণী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে খবর দেই। সেখান থেকে ৬ সদস্যের একটি টিম গোপালগঞ্জে এসে গন্ধগোকুলের ৪ টি বাচ্চা নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: দুই জাহাজের সংঘর্ষের পর বন্ধ চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল
খুলনা বন্যপ্রাণী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ফরেস্টার মো. মামুন- অর-রশীদ বলেন, উদ্ধারকৃত প্রাণীর গায়ের রং ও আকৃতি দেখে গন্ধগোকুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এদের ইংরেজি নাম (Asian Palm Civet) এশিয়ান পাম সিভেট (Scientific name of the animal is Paradoxurus Hermaphroditus) । এরা মূলত নিশাচর প্রাণী। লোকালয়ের কাছাকাছি এ প্রাণী ঝোপ জঙ্গলে বসবাস করতে পছন্দ করে। এরা রাতের বেলায় লোকালয় থেকে মুরগী, কবুতরের বাচ্চা, ফল, সবজি, তাল, খেজুর রস, কীট,পতঙ্গ সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করে। গন্ধগোকুল ইঁদুর ও ফল ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে থাকে। উদ্ধার করা সাবকগুলোর বয়স ২৫-২৮ দিন হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে । সাবকগুলোর দেহ ৯ ইঞ্চি লম্বা। লেজের দৈর্ঘ ১০ ইঞ্চি হবে। গায়ের রং ধূসর। পিঠে ঘার থেকে লেজ পর্যন্ত একাধিক ঘন কালো র্যাগ রয়েছে। গন্ধগোকুল অন্ধকারে অন্য প্রাণীর গায়ের গন্ধশুঁকে তাকে চিনতে পারার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। গন্ধগোকুল সুগন্ধী চালের গন্ধ ছড়ায়। সাবকগুলো সুস্থ আছে।
তিনি আরও বলেন, জন্মের পর এরা মায়ের দুধ পান করে। আমরা দুধ দিয়েই এদের লালন পালন করবো। ২/৩ মাস লালন পালন করার পর এরা নিজেরাই আহার গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। তারপর পরিবেশ বান্ধবস্থানে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এরা সাধারণত রান্নাঘরের কাঠ রাখার স্থান, বসত ঘরের মাচা, বিল্ডিং এর কার্নিশে বাসা বেঁধে বাচ্চা প্রসব করে। এরা বিভিন্ন এলাকায় তাল খাটাশ, গাছ খাটাশ, ভোন্দর, নোঙর, সাইরেল নামে পরিচিত। তালের রস বা তাড়ি পান করে বলে এদের তাড়ি বা টডি বিড়ালও বলা হয়।
ইত্তেফাক/এমআরএম