ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক

একটি আন্ডারপাসের অভাবে বারবার ঝরছে প্রাণ

কোনো জটিলতা না থাকলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাকুল্যা বাস স্টেশনে আন্ডারপাস নির্মাণ হচ্ছে না। আন্ডারপাস না থাকায় গত ছয় বছরে পারাপারের সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিশু, ছাত্র এবং একই পরিবারের সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তির প্রাণ ঝরেছে। আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিক। এমনটাই জানালের স্থানীয় কয়েক গ্রামের মানুষ। বাসস্ট্যান্ডটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এই বাসট্যান্ড এলাকায় মঙ্গলবারও (১৮ অক্টোবর) ১ জন নিহত ও ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বারবার দাবি তোলার পরও আন্ডারপাস না হওয়ায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা। প্রতিনিয়ত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে আসছে।

সম্প্রতি আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এবং ৮-১০ গ্রামের মানুষ আন্দোলনে নেমেছেন। আন্ডারপাস নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলনসহ কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

mirzapur-pic02,18-10-22

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডি এ মতিন, ওয়ার্কার্স পার্টি টাঙ্গাইল জেলার সভাপতি কমরেড গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী ও গণমাধ্যকর্মী এমরান চৌধূরী এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা জানান, পাকুল্যায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের গণকবর, ৪-৫টি গ্রামের সামাজিক কবরস্থান, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, সাটিয়াচড়া ছাবদার আলী কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, কয়েকটি বিদ্যালয়, জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভূমি অফিস, বাজারসহ ১৩-১৪টি গ্রাম রয়েছে। এছাড়া পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে পার্শবর্তী দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধামরাই, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকা, উত্তরবঙ্গ এবং জেলা সদর টাঙ্গাইলের সঙ্গে যাতায়াত করে আসছে। স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে আন্ডারপাস নির্মাণ না করায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা রাফিউর রহমান খান ইউসুফজাই সানি, তৌফিকুর রহমান তালুকদার রাজিব, ব্যবসায়ী মাকসুদুর রহমান খান ইউসুফজাই রেমনসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চারলেন চালু হওয়ার পর গত ছয় বছরে এখানে রাস্তা পারাপারের সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাস্তা পারাপারের সময় ঘাতক বাসের চাপায় কুমারজানি গ্রামের ইলিম উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। সরকারের কাছে অনতিবিলম্বে এখানে আন্ডারপাস বা ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

mirzapur-pic002,18-10-22

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সাসেক-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার অমিত কুমার পাল, টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলীউর হোসেন, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরফি মাহমুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা তিন মাসের মধ্যে পাকুল্যা বাস স্টেশনে ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং দুই পাশে ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থা থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি সাসেক-এর সহযোগিতায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এখানে আন্ডারপাস সড়ক নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও তাদের সে প্রতিশ্রুতি আলোর মুখ দেখেনি। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে নিহতের সংখ্যা।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাকুল্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ স্থান যাচাই-বাছাই করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হবে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাকুল্যা এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।