ফ্রান্সে গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে বেতন ভাতা ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে দেশজুড়ে ধর্মঘট পালন করেছে দেশটির ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনগুলো। মঙ্গলবারের (১৮ অক্টোবর) এই ধর্মঘটে প্রাথমিকভাবে স্কুল ও পরিবহনসহ দেশটির সরকারি খাতগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। খবর রয়টার্স।
উচ্চ মজুরির দাবিতে ফ্রান্সের তেল শোধনাগারগুলোর কর্মীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে ধর্মঘট পালন করছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। চলমান শ্রমিক ধর্মঘটে ফ্রান্সের প্রধান তেল শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরবরাহে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। মে-তে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নিবাচিত হওয়ার পর ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবার কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বলে ধারণা করা হয়।
জ্বালানি সরবরাহ আবার চালু করতে কিছু শ্রমিককে পেট্রোল ডিপোর কাজে ফিরে যেতে বাধ্য করার সরকারি সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের ধর্মঘটে উজ্জীবিত করে, এমনটাই বলছেন ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা। সরকারি এই সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের ধর্মঘট করার অধিকারকে বিপন্ন করেছে অভিযোগ করে অনেকে এর সামালোচনা করেন।
ফ্রান্সের অন্যতম প্রধান শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দেশটির বহুজাতিক জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম কোম্পানি টোটাল এনার্জিসে চতুর্থ সপ্তাহের মতো ধর্মঘট অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
জানা গেছে, কোম্পানিটি মজুরি ৭ শতাংশ বাড়ানো ও বোনাসের ঘোষণা দিয়ে অন্য ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে একটি চুক্তি করে, কিন্তু সিজিটি মজুরি ১০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি করছে। তাদের যুক্তি, একদিকে মুদ্রাস্ফীতি চলছে অন্যদিকে কোম্পানিটি বিপুল মুনাফা করেছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইউরো জোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই ধর্মঘট জ্বালানি খাতের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে বহুজাতিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানি ইডিএফও আছে। ধর্মঘটের কারণে এখানে ইউরোপের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ বিলম্বিত হতে পারে।
এফএনএমই-সিজিটি ইউনিয়নের একজন প্রতিনিধি জানান, ধর্মঘটের কারণে ফ্রান্সের ১০টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে, ১৩টি রিয়্যাক্টরে রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বিলম্ব ঘটছে আর এতে ফ্রান্সে বিদ্যুৎ উৎপাদন মোট ২ দশমিক ২ গিগাওয়াট হ্রাস পেয়েছে। ধর্মঘটের কারণে ফ্রান্সের গণপরিবহন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোস্টার ট্রেনসহ অন্যান্য ট্রেন ও প্যারিসের পাতাল রেল চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। এতে স্কুল ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
এদিকে ধর্মঘটের সময় সারা দেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্যারিসে স্থানীয় সময় ১২টা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রবিবার প্যারিসের রাস্তায় বড় ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়। এদিন কয়েক হাজার মানুষ নগরীটির রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় ফ্রান্সের কট্টর বামপন্থি দল লা ফঁস আসুমিজেঁর নেতা জ্য লুক মিলশঁ, চলতি বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া লেখক আনি এর্নো পাশাপাশি মিছিল করে এগিয়ে যান। এ মিছিলের পরই মঙ্গলবারের সাধারণ ধর্মঘট পালনের ডাক দেন মিলশঁ।