দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পেঁয়াজের আমদানি বেড়ে যাওয়াসহ ক্রেতা সংকটের কারণে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ৬ টাকা। একদিন আগেও ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ প্রকারভেদে বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজিদরে। সেই পেঁয়াজ বুধবার (১৯ অক্টোবর) প্রকারভেদে কমে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম করতে শুরু করায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ফুলবাড়ী পৌর বাজারের পেঁয়াজ কিনতে আসা মধ্যপাড়া এলাকার পাইকার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার পর থেকেই পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে ছিল। এ সময় প্রকারভেদে ভারত থেকে আমদানিকৃত ২০ টাকা কেজির পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা এবং ৩০ টাকার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজিতে। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেচাবিক্রিও কমে গিয়েছিল।
পেঁয়াজ কিনতে আসা এনজিও কর্মী রাকিব হাসান বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকলেও বুধবার (১৯ অক্টোবর) কেজিতে কমেছে প্রকারভেদে ৫-৬ টাকা। আরও একটু কম হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনের জন্য সুবিধা হয়।
সবজি কিনতে আসা পৌরশহরের হোটেল ব্যবসায়ি আসোয়াদ হোসেন বলেন, কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা কম হওয়ায় সাড়ে ৭ কেজি ভারতের আমদানিককৃত পেঁয়াজ কিনেছেন। হোটেলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কেজি পেঁয়াজ লাগে, কিন্তু দাম বেশির কারণে কম করে কিনতে হচ্ছে।
পৌর খুচরা সবজি ব্যবসায়ি শাহ জামাল হোসেন ও হারুন উর রশীদ বলেন, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেড়ে গেলে দাম কমে আসে, আর আমদানি কমে গেলে দাম বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে কেজিতে ৫-৬ টাকা কমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
ফুলবাড়ী পৌর বাজারের পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ি আবেদ আলী ও মেহেদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের আমদানি কমে আসলে দাম বেড়ে যায়, আবার আমদানি বেড়ে গেলে দামও কমে আসে। বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বাজারে বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে এসেছে। একই সাথে দেশি পেঁয়াজেরও দামও কমে এসেছে। আমদানি ও দেশি উভয় পেঁয়াজেই প্রকারভেদে কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা কমে এসেছে। দাম কমায় বেচাবিক্রিও বেড়েছে অন্য দিনের তুলনায় আজ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অধিক মুনাফার লোভে কেউ যেন অযৌক্তিকভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে না পারে সেদিকে উপজেলা প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।