গাইবান্ধায় উপ-নির্বাচনে অনিয়মের দ্বিতীয় দিনের তদন্ত সম্পন্ন

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়মের দ্বিতীয় দিনের তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সকাল ৯ টায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ তদন্ত কাজ শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল সাড়ে চারটায়। নির্বাচন কমিশনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এ তদন্ত পরিচালনা করেন।

এ তদন্ত চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তিন দিনে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্তত ৬৮৫ জনের সাক্ষাতকার নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে প্রথম দিনে অন্তত ১৪০ জনের বক্তব্য নেওয়া হয়।

বুধবার দ্বিতীয় দিনে ৪০ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২৭৮ জন সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ২০০ জন পোলিং এজেন্ট, সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নওগাঁ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাক্ষাতকার নেওয়া হয়। এছাড়া সাঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ব্যক্তিদের সাথেও কথা বলেন। তবে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত কতজনের সাক্ষাতকার নেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটি তাত্ক্ষনিকভাবে তা জানাতে পারেনি।

বিকেলে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মোত্তালিব জানান, শান্তিপুর্ণ পরিবেশে দিনভর তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়।

গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী পাঁচ প্রার্থীর বাড়িই সাঘাটা উপজেলায়। তাই বুধবারের তদন্তটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একারণে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপচেপরা ভীড় ছিল।

সাক্ষাতকার প্রদানের পর আজ অন্তত ১২ জন প্রিজাইডিং ও সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হয়। অধিকাংশই জানান, ‘তদন্ত কমিটি আমাদের কাছে ভোটের দিনের প্রকৃত চিত্র জানতে চান। আমরা তদন্ত কমিটিকে সেসব বিষয়ে জানাই।  

সন্যাসদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও কামালেরপাড়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোঃ মজিদুল ইসলাম মন্ডল জানান, তদন্ত কমিটি তার নিকট কেন্দ্রের প্রকৃত চিত্র জানতে চান। তিনি বলেন, ওই দিন আমার কেন্দ্রে তেমন কোন অনিয়ম আমার চোখে পরে নাই। 

বাঁশহাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও জুমাবাড়ী আদর্শ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মোঃ  আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ জানান, তার কেন্দ্রের সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ তাকে দেখানো হয়। এবং এসব বিষয়ে জানতে চান। তিনি জানান, কিছু লোক গোপন কক্ষে ঢুকে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি ও তার সহকর্মীরা এসব প্রতিকারে সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বেলা ১২ টায় ভোট গ্রহণ বন্ধ করেন। 

শেষে বিকেল চারটায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তদন্ত কমিটির আহবায়ক বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। তিনি বলেন, এখনো আমাদের কার্যক্রম শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এই কার্যক্রম আছে। সেখানে স্থগিত ঘোষিত কেন্দ্রগুলোর আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের আমরা ডেকেছি। আমরা তাদের সাক্ষাতকার নেব। 

সিসিটিভি ক্যামেরায় ফুটেজ দেখিয়ে যেসব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে আপনারা জানতে চেয়েছিলেন তারা কি বলেছেন বা দুই দিনের তদন্তে কি পেয়েছেন- এই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করা যাবে না। আমরা সাত কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিল করবো। 

প্রসঙ্গত. গাইবান্ধা-৫ আসনের সাংসদ ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে এই আসনে গত ১২ অক্টোবর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ঢাকায় নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে সিসি ক্যামেরায় বিভিন্ন অনিয়ম দেখে ভোটগ্রহন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরদিন বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এ উপনির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মের ঘটনা তদন্তে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথকে আহবায়ক এবং যুগ্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস ও মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।