আমিরাতে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্পের নানা সমস্যা নিরসনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রয়াস চালানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সে লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ পোশাক শিল্প মালিক সমিতির নামে একটি সংগঠন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক সহজে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বিস্তৃত করতে এই সংগঠন অনিবার্য উঠেছিল বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে ৩০ বছর ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্পকে ঘিরে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশীর বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ও কারখানা রয়েছে। শিল্পাঞ্চলটিতে ব্যবসায়ীদের মাসিক টার্নওভার ২০০ মিলিয়ন ডলারের ওপর । তাছাড়া ৩০ হাজার বাংলাদেশীর জীবন জীবিকা চলে এই শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে। দীর্ঘদিন এ অঞ্চলে তারা বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করে এলেও নানা সমস্যা নিরসনে ছিল না তাদের কোনো অভিভাবক বা সংগঠন। দীর্ঘদিন পর হলেও বৈশ্বিক ক্রান্তিকাল কাটিয়ে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখানকার ব্যবসায়ীরা সংগঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। ফলে গঠন করেছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্প মালিক সমিতি।
৩০১ সদস্যের এ সংগঠনটি তৈরি পোশাক ব্যবসায় নানা সংকট ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমই, বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুবাই, বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দিক নির্দেশনায় কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করেন। বর্তমানে গার্মেন্টস পণ্য আরব আমিরাতে নিয়ে আসার জন্য যে পরিবহন সংকট তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নতুন সংগঠনের নেতারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার পূর্ববর্তী সময়ে এই অঞ্চলে বাংলাদেশি পোশাকের রমরমা বাণিজ্য থাকলেও করোনাকালীন ব্যবসায়ীরা নানা সংকটের মুখে পড়েন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও চীনের তৈরি পোশাক এই বাজার দখলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।