দিনাজপুরের ফুলবাড়ী টেকনিক্যাল এ্যান্ড বিএম ইনস্টিটিউটের খতিয়ান ভূক্তি জমি রক্ষাসহ সরকারি বরাদ্দের ভবন নির্মাণ কাজে বাধাদানকারীদের শাস্তির দাবিতে করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) ফুলবাড়ী টেকনিক্যাল এ্যান্ড বিএম ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ইনস্টিটিউট চত্বরে সকালে সাড়ে ১০টার দিকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আবু তৈয়ব ছালাহ্উদ্দিন, প্রভাষক বিপ্লব কুমার দাস, প্রভাষক মাহামুদুল হাসান, প্রভাষক সোহরাব হোসেন, প্রভাষক তারিকুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।
অধ্যক্ষ মো. আবু তৈয়ব ছালাহ্উদ্দিন বলেন, ২০০১ সালে ফুলবাড়ী পৌরশহরের পশ্চিম গৌরীপাড়া মৌজার ২৪৯ নং দাগের ৬৭ শতাংশ জমির মধ্যে দাগের পূর্বাংশের ৩৫ শতাংশ জমিতে ফুলবাড়ী টেকনিক্যাল এ্যান্ড বিএম ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠেছে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে অনুমতি পায়। প্রতিষ্ঠানের নামে জমি হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তায় ২০০৯ সালে জমির অংশীদার মোজাফ্ফর হোসেন ৬৭ শতাংশ জমির মধ্যে ৩৫ শতাংশ জমি প্রতিষ্ঠানের নামে দানপত্র দলিল মূল্যে রেজিষ্ট্রি করে দেন। যার দলিল নম্বর ১৬১০৬, তারিখ ১১/০৫/২০০৯।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এনপিওভুক্ত হয়। ওই জমিটি কলেজের নামে খারিজ ও খতিয়ানভুক্ত হয়ে নিজস্ব জমিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করে। ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
২০২১-২২ অর্থ বছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ সাপেক্ষে চার তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের জমির দিক নির্ণয় নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। যা ইতোমধ্যেই সমঝোতাও হয়েছে। এরপরেও প্রতিপক্ষরা সমঝোতা না মেনে প্রতিষ্ঠানের জায়গাকে নিজেদের দাবি করে ভবন নির্মাণ কাজে বাধা ও হুমকিসহ ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। নির্মাণ কাজে বাধা ও ষড়যন্ত্রকারীদের শাাস্তি দাবি করেন তিনি।
প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ আলী কাদের নেওয়াজ বলেন, তার পিতা মরহুম দারাজ উদ্দিন মন্ডল তার দুই ছেলে মোজাফ্ফর হোসেন ও মোহাম্মদ আলী কাদের নেওয়াজের নামে ওই জমিটি সমানভাবে দিক নির্ণয় করে বন্টন করে দেন। পরবর্তীতে মোজাফ্ফর হোসেনের ছেলে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব ছালাহউদ্দিন বন্টননামা উপেক্ষা করে খেয়াল খুশি মতো পেশীশক্তির জোরে প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ করছে।
এ বিষয়ে আদালত থেকে রায় পাওয়ার পরও অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব ছালাহউদ্দিন তা মানছেন না। উপরোক্ত মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।