তিন বছর পর অনুষ্ঠিত হলো ফুলকোর্ট রেফারেন্স

সকাল ৯টার মধ্যেই প্রধান বিচারপতির এজলাস কক্ষ আইনজীবীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ। আধা ঘণ্টা পর এজলাসে আসেন প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা। জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুসারে প্রধান বিচারপতির দুই পাশে ও পেছনের চেয়ারে বসেন বিচারপতিরা। এরপরই ফুল কোর্ট রেফারেন্স শুরু হয়। মৃত্যুবরণকারী ১৬ জন বিচারপতি ও ২৪৯ জন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর কর্মময় জীবন স্মরণ করা হয় ওই রেফারেন্সে।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) এই স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, আমাদের মাঝ থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া বিচারপতি ও আইনজীবীরা বিচারাঙ্গনে অবদান রেখে গেছেন। উনারা বেঁচে থাকলে দেশ ও জাতি উপকৃত হত। আমরা তাদের কর্মময় জীবনকে স্মরণ করি। পরে মারা যাওয়া বিচারপতি ও আইনজীবীদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপরই সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় ফুলকোর্ট রেফারেন্স সভার।

এ সময় আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান, বিচারপতি মো. বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং হাইকোর্টের সকল বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বেলা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই স্মরণ অনুষ্ঠান চলে।

সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতি বছর মারা যাওয়া বিচারপতি ও আইনজীবীদের স্মরণে ফুলকোর্ট রেফারেন্স সভা করা হয়। সেই রেওয়াজ অনুযায়ী গত তিন বছরে মারা যাওয়া ১৬ জন বিচারপতি ও ২৪৯ জন আইনজীবীর স্মরণে এই সভার আহ্বান করা হয়। সভায় চলতি বছরের ১৯ মার্চ মারা যাওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কর্মময় জীবন পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তার জীবনের নানা দিক পাঠ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন। তিনি ২৬৫ জনের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন। এরপর তাদের জীবনী পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

সর্বশেষ বিচারপতি ও আইনজীবীদের জীবনী পাঠ করেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক আবদুন নুর দুলালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবীরা এই স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।