গাইবান্ধা-৫ উপ-নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত শেষ করেছে কমিটি

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত কাজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো শেষ হয়েছে। এতে করে তিনদিনব্যাপী তদন্ত কাজ শেষ হলো। গত মঙ্গলবার সকাল নয়টায় গাইবান্ধা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এ তদন্ত কাজ শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় শেষ হয়। এই তদন্ত পরিচালনা করেন এ উপ-নির্বাচনের অনিয়মের তদন্তে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। কমিটির আহবায়ক হচ্ছেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, সদস্য সচিব মোঃ শাহেদুন্নবী চৌধুরী এবং সদস্য যুগ্ম সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। 

এরমধ্যে প্রথম দিন মঙ্গলবার ১৪৬ জন, দ্বিতীয় দিন বুধবার ৪৩০ জন এবং শেষে তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার ৪৬ জনের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন এই কমিটি।

এরআগে গাইবান্ধায় স্থানীয়ভাবে এই শুনানির জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্তত ৬৮৫ জনকে নোটিশ জারী করেন এই তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শাহেদুন্নবী চৌধুরী।

তৃতীয় দিন গাইবান্ধা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ভোটের দিন কর্তব্যরত ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও র্যাবের কমান্ডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সাক্ষাতকার গ্রহন করেন। এছাড়া কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা ১৯ পুলিশ কর্মকর্তারও বক্তব্য গ্রহন করা হয়। 

সাক্ষাতকার প্রদানের পর বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ভোটের পরিবেশ প্রার্থীদের অনুকূলে ছিলনা। যার জন্য আমরা চারজন প্রার্থী একত্রিত হয়ে ভোট বর্জন করেছি। আমরা এসব কথাই তদন্ত কমিটিকে বলেছি।

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন বন্ধ ও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিবেন এমনটা আশা করি। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই উপ-নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইলেকশন কমিশন যদি আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে হয়তো সব দলের অংশগ্রহনের একটা সম্ভাবনা দেখা দিবে। আমরা এসব কথাই তদন্ত কমিটিকে বলেছি’।

স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ এবং সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটি আমাদের কাছে যা জানতে চেয়েছে আমরা তা জানিয়েছি। 

তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, এ আসনে মোট ১৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বাকী যে কেন্দ্রগুলো রয়েছে, সেই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার জন্য আমি দাবি জানিয়েছি। 

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভোটগ্রহনের দিন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিল তদন্ত কমিটি। ভোটগ্রহন কেমন দেখেছেন, প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা অনেকগুলো কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি, অনেকের সঙ্গে কথাও বলেছি, সেদিন কেউ কোন অভিযোগ আমাদেরকে দেয়নি। আমরা সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ ভোটগ্রহন দেখেছি। 

জেলা প্রশাসক মোঃ অলিউর রহমান বলেন, আমরা ফিজিক্যালি যে জায়গাগুলো দেখেছি সে জায়গাগুলোতে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চলছিল। এছাড়া নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে অবহিত করার সাথে সাথে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। নির্বাচনে আমাদের দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কেউ যদি অভিযোগ দেয়, সেই ব্যাপারে ভোটগ্রহন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি। কিন্তু আমাদের কাছে সেদিন এই সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আসে নাই। সেই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছি। 

তদন্ত কাজ শেষে কমিটির আহবায়ক অশোক কুমার দেবনাথ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তিনদিনব্যাপী তদন্ত কাজ আজ শেষ করলাম। এ কার্যক্রমে ৬৮৫ জনের সাক্ষাতকার নেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়েছিল। তারমধ্যে কয়েকজন পোলিং এজেন্টরা না আসায় ৬২২ জনের বক্তব্য নেওয়া হয়। এই পর্যবেক্ষণ-রিপোর্ট আমরা নির্বাচন কমিশনে জমা দেব। কমিশন সেটা প্রকাশ করবেন; কি করবেন না, সেটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমরা কিছু বলবো না। 

প্রসঙ্গত, এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর আসনটি শুণ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।