বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৯-তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আদ্দিস আবাবায় বাংলাদেশ দূতাবাসে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অতিথিবৃন্দ ও তাদের পরিবারবৃন্দ, স্থানীয় ইথিওপীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বেশকিছু ইথিওপীয় ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক, দূতাবাসের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং তাদের পরিবারবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
দূতাবাসের উদ্যোগে ‘শেখ রাসেল দিবস-২০২২‘ উপলক্ষে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ী প্রতিযোগীদের এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আকর্ষণীয় পুরস্কার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলামের আমন্ত্রণে দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। শুরুতে রাষ্ট্রদূত আগত অতিথিবৃন্দের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শহিদ শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
জাতীয়‘শেখ রাসেল দিবস-২০২২‘ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত পৃথক পৃথক বাণী আগত দর্শক শ্রোতাদের উদ্দেশ্য পাঠ করে শোনানো হয়। অত:পর আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে ‘শেখ রাসেল দিবস‘ এর উপরে নির্মিত দুই‘টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম বলেন,বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হলেও তার মূল্যবোধ, নীতি ও আদর্শ আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং স্বাধীনতা বিরোধীরা-এ ভয়েই শিশু রাসেলসহ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকলকে হত্যা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে,শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যই হলো যে ভবিষ্যতে যেন আর কোন নিষ্পাপ শিশু এভাবে নৃশংসতার শিকার না হয় এবং পৃথিবীর সকল শিশু যাতে পিতা-মাতার স্নেহ ও ভালোবাসায় সিক্ত থেকে বড় হয়ে উঠতে পারে। তিনি তার ও শেখ রাসেলের একই স্কুলে পড়বার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি শহিদ শেখ রাসেলের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে প্রধানমন্ত্রীর সূচিত উন্নয়নের ধারায় সকলকে সম্পৃক্ত হতে আহবান জানান এবং বলেন যে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেলের স্মৃতির প্রতি সবোর্চ্চ সম্মান প্রদর্শন করা হবে। পরিশেষে আগত অতিথিদের জন্য ঐহিত্যবাহী বাঙালি ও ইথিওপীয় সুস্বাদু খাবারের আয়োজন করা হয়।