পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা বামপন্থী সরকারের পতন ঘটিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে আন্দোলনের রেশ ধরে এ সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি এবার সেই শিঙ্গুয়ের টাটার ন্যানো গাড়ি কারখানা বিরোধী আন্দোলনকে কার্যকরীভাবে অস্বীকার করলেন। মমতার দাবি, তৃণমূল নয় টাটাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছে সিপিএম। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানার প্রজেক্ট বন্ধ হওয়া নিয়ে বামপন্থী দলের নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলকে দোষারোপ করে আসছে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পালাবদলে অনুঘটকের মতো কাজ করেছিল শিঙ্গুয়ের আন্দোলন।
এই শিঙ্গুর আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বহুদিন পর আবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল টাটার প্রসঙ্গ। বুধবার (১৯ অক্টোবর) শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা যায় সেই ন্যানো কারখানার প্রসঙ্গ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কেউ কেউ বাজে কথা বলে বেড়াচ্ছে। টাটা উত্তরবঙ্গের মানুষদেরকে চাকরি দিচ্ছিল, তিনি টাটাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। টাটাকে তিনি তাড়াননি, সিপিএম তাড়িয়েছে।
সিপিএম লোকেরা জমি জোর করে দখল করতে গিয়েছিলেন। তারা জমি ফেরত দিয়েছেন। জায়গার তো অভাব নেই। তিনি জোর করে কেন জমি নেবেন? তারা এতো প্রজেক্ট করেছেন, কই জোর করে তো জমি তারা নেননি।
তিনি পরিষ্কার করে বলেন, তাদের এখানে যত শিল্পপতি রয়েছেন, কারও মধ্যে তারা ভেদাভেদ করেন না। তারা প্রত্যেকের ভাল চান। তারা এ রাজ্যে বিনিয়োগ করুক। বিনিয়োগ করে এখানে দরকার হলে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি করুক।
এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী পাল্টা খোঁচা দিয়েছেন মমতাকে। তিনি জানান, মমতা পশ্চিমবঙ্গের সর্বনাশ করেছেন। যুবকদের কাজ নেই। কাজের জন্য ভিনরাজ্যে দৌড়ে বেড়াচ্ছে সবাই।
তারপরও কোনো কাণ্ডজ্ঞান থাকলে মুখে আলকাতরা মেখে বসে থাকার কথা। সরকারের পয়সায় এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর ভাষণবাজি করছেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের সর্বনাশের জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী। শিঙ্গুরে না হচ্ছে শিল্প, না হচ্ছে চাষ। বারোটা বেজে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তার বাহিনী পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করছে।