খুলনায় বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটকের অভিযোগ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক শামসুজ্জামান দুদু অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত থেকে খুলনায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। আগামীকাল ২২ অক্টোবর বিএনপির খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশ বানচাল করতে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। খুলনা মহানগরী থেকে ৬০জন ও বিভাগের বিভিন্ন জায়গা থেকে শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।’ শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডের বিএনপি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। 

দুদু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা শহর থেকে বিএনপির ৬০ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাগুরা থেকে আসা একটি বাসভর্তি নেতা-কর্মীদের সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ আটক করেছে। বাগেরহাটে ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যশোরে গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৮ জনকে।’ 

তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সামনে থেকে ১৯ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে অপমান করা হয়েছে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে এইভাবে অপমানের মুখোমুখি হতে হবে ভাবিনি।’

তিনি বলেন, ‘এ মাটি স্বাধীনতার মাটি, আন্দোলনের মাটি, গণতন্ত্রের মাটি। একটি সমাবেশকে বানচাল করতে গোটা বিভাগ জুড়ে ভয়ের সংস্কৃতি সৃষ্টি করা হয়েছে। পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাস, লঞ্চ, ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, বাগেরহাট, নড়াইল থেকে কি বিএনপির নেতা-কর্মীরা পায়ে হেঁটে আসবেন? নদী সাঁতরে খুলনায় আসবেন? এ কেমন মানসিকতা? স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের নারী, পুরুষ, শিশু বুকের রক্ত দিয়েছিলেন। সেই দেশের এমন পরিস্থিতি হবে কেন? এ কোন দেশে বাস করছি আমরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন শামসুজ্জামান দুদু। ছবি: ইত্তেফাক

খুলনা শহরে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের উল্লেখযোগ্য সদস্যরা বসবাস করেন উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘সেই শহরে অসহনশীলতা থাকতে পারে না। কোনো ধরনের অসহনশীলতা হতে পারে না। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। এ জন্য আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। সকলের সহযোগিতা চাই।’

দুদু বলেন, ‘শনিবার দেখতে পাবেন বিএনপি কতটা জনপ্রিয়, কতটা শক্তিশালী। দেখতে পাবেন খালেদা জিয়া কতটা জনপ্রিয়, তারেক রহমান কতটা জনপ্রিয়। এই গণসমাবেশ হচ্ছে, গণতন্ত্রের দাবিতে, এই গণসমাবেশ হচ্ছে, ৫ জন শহীদের বিচারের দাবিতে, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে। যত বাধাই আসুক না কেন, যে কোনো উপায়ে, যেকোনোভাবেই আমরা আমাদের সমাবেশ সফল করবই।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, অমলেন্দু দাস অপু, শেখ মুজিবর রহমান, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহীন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, তারিকুল ইসলাম জহির ও রবিউল ইসলাম রবিসহ অন্যান্যরা।

এদিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, ‘মাগুরা থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসভর্তি বিএনপির নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়নি। হয়তো রাজনৈতিক কারণে এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে, বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে ২৫ জন আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও রয়েছে।’