g রিয়াদ হোসেন
নতুন বাজেটে বেশকিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত রয়েছে। আগের বছর ব্যক্তি করদাতার মোট আয় দশ লাখ টাকা পর্যন্ত তাদের বিনিয়োগের উপর কর রেয়াতের হার ছিল ১৫ শতাংশ। এবার তা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান মোট জনবলের ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধীদের নিয়োগ দিলে সে প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় করে ৫ শতাংশ রেয়াত প্রদান করা হবে। বর্তমানে কর অবকাশ সুবিধার আওতায় থাকা ২১টি শিল্পখাত ও ১৯টি ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ খাতের জন্য এ সুবিধা আগামী ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা। এই সুযোগ বাড়ছে। সেই সঙ্গে নতুন করে এই সুবিধার মধ্যে আরো ১০টি খাত যুক্ত হয়েছে। এগুলো হলো— কৃষি যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, গৃহস্থালী সরঞ্জাম, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, ওয়াশিং মেশিন, মোবাইল ফোন, খেলনা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, এলইডি টেলিভিশন, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং খাতের শিল্প। ঠিকাদার ও সরবরাহ বিলের উপর উেস কর কর্তন হ্রাস করে ৭ শতাংশের স্থলে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। লোহা ও লৌহজাত পণ্য উত্পাদনের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে উেস কর কর্তন হার টনপ্রতি ৮শ টাকা থেকে কমিয়ে ৫শ টাকা করা হয়েছে। লোহা ও লৌহজাত পণ্য এবং সিমেন্ট সরবরাহের উপর উত্স কর কর্তনের হার ভিত্তিমূল্য নির্বিশেষে ৩ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট বা ডিলারের কমিশন বা ডিসকাউন্টের উপর উেস কর কর্তন করা হয়। এ ধরনের ব্যবসায়ীগণ পণ্য সরবরাহ করলে সরবরাহ পর্যায়ে আরোপযোগ্য উত্স করের সাথে কমিশন বা ডিসকাউন্টের উপর কর্তিত কর সমন্বয় করা যাবে।
মিডিয়া বায়িং এজেন্সি কমিশনের উপর উত্স কর কর্তনের ভিত্তি সাড়ে তিন শতাংশ থেকে কমিয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। সর্বশেষ নিরূপিত আয় চার লাখ টাকার বেশি হলে করদাতাকে অগ্রিম আয়কর প্রদান করতে হয়। এই সীমা ছয় লাখ করা হয়েছে। হস্তশিল্পের রপ্তানি আয়ের করমুক্ত রাখার সময়সীমা আরো পাঁচ বছর পর্যন্ত বেড়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক এলাকায় শিল্প স্থাপনে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে। আবাসন ক্রয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ আরো বাড়ানো হয়েছে। জমি কেনায় নতুন করে এ সুযোগ বিস্তৃত করা হয়েছে। স্টক লভ্যাংশের পরিবর্তে নগদ লভ্যাংশ প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণায় ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের উত্সাহিত করতে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ করমুক্ত করা হচ্ছে। আগে এটি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উত্সাহিত করতে নিবাসী ও অনিবাসী সব কোম্পানির ক্ষেত্রে দ্বৈত কর পরিহার করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে করের চাপ বাড়বে এমন কিছু সিদ্ধান্তও এসেছে বাজেটে। ব্যক্তি ও কোম্পানির জন্য বাজেটে কর ছাড়ের সুখবর নেই। ৫০ লাখ টাকার অধিক সম্পদ থাকলে ওই সম্পদের মূল্যের উপর ০.১ শতাংশ বা প্রদেয় করের ৩০ শতাংশের মধ্যে যেটি বেশি—ওই পরিমাণ অর্থ সারচার্জ হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। রপ্তানির কর বাড়ছে চারগুণ। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার টিআইএন বাধ্যতামূলক। এসব এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ নেওয়ার জন্যও টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরকম আরো অনেক জায়গায় করহার বাড়ানো হয়েছে। ফলে সাধারণ মধ্য আয়ের মানুষ ও করদাতার উপর চাপ বাড়বে।