চট্টগ্রামে গ্যাস-সংকটের মধ্যেও কর্ণফুলীর লাভ ১৬৩৯ কোটি টাকা

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি গত অর্থবছরে ৪ হাজার ৭৯০ কোটি ৮ লাখ টাকার গ্যাস বিক্রি করে ১ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ৮৫৯ কোটি টাকা। আর বকেয়া বাবদ আয় আদায় করেছে ১ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রামে গত অর্থবছরে এলএনজি থেকে বেশি গ্যাস ব্যবহার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু গ্যাস-সংকটের কারণে চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে বিরাজমান সংযোগ ও অপেক্ষমাণ সংযোগের চাহিদা রয়েছে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে চাহিদার অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ করা গেলে বর্তমানের দ্বিগুণ রাজস্ব আয় হতো। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে অর্থাৎ গত জুন মাস পর্যন্ত তিন হাজার ১৫৭ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস বিক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তার বিপরীতে বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৯৫ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস। অর্থাৎ গত অর্থবছরে ৪ হাজার ৭৯০ কোটি টাকার গ্যাস বিক্রি করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্যাস বিক্রি হয়েছে সার কারখানায়। এ খাতে ২ হাজার ২৪ দশমিক ৭৭ কোটি টাকার গ্যাস বিক্রি করা হয়েছে। শিল্প খাতে (বৃহৎ) গ্যাস বিক্রি হয়েছে ৫৮০ কোটি ২৬ লাখ টাকার। ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পকারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ক্যাপটিভ পাওয়ার রয়েছে। ক্যাপটিভ পাওয়ার খাতে গ্যাস বিক্রি হয়েছে ৭৩২ কোটি ৩২ লাখ টাকার। আবাসিক খাতে গ্যাস বিক্রি হয়েছে ৬৭৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকার। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস বিক্রি হয়েছে ৪৭০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার। গ্যাস সংকটের কারণে বছরের অধিকাংশ সময় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল। ফলে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস বিক্রি হয়েছে ২৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

গত অর্থবছরে কোম্পানি গ্যাস ক্রয় করেছে ৩ হাজার ৬২ দশমিক ২২ মিলিয়ন ঘনমিটার। এর মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ঘনমিটার আর এলএনজি থেকে ৩ হাজার ৫২ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস।

জানা যায়, গত ২০১৫ সাল থেকে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান বন্ধ রয়েছে। ফলে এই বছরে নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬টি, শিল্প খাতে ১৬টি, ক্যাপটিভ পাওয়ার খাতে চারটি, বাণিজ্যিক খাতে তিনটি। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানিতে মোট সংযোগ রয়েছে ৬ লাখ ১ হাজার ৭০৩টি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে গত অর্থবছরে বকেয়ার জন্য ১ হাজার ৮৭৮টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আর অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ৯২টি। তার বিপরীতে পুনঃসংযোগ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৫৯টি। তবে অভিযোগ রয়েছে নগরীতে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে গ্যাস চুরি হচ্ছে। আবাসিক খাতে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বেশি গ্যাস চুরি হচ্ছে। কিন্তু সেই পরিমাণে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান হয়নি। কার্যকর অভিযান চালানো গেলে আরো বেশি গ্যাস চুরির সন্ধান পাওয়া যেত।

কর্মকর্তারা জানান, সরবরাহ করা গ্যাসের চুরি বন্ধে কোম্পানির সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৪ লাখ ৩৫ হাজার আবাসিক সংযোগে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। বর্তমানে প্রথম দফায় ৬০ হাজার আবাসিক গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গ্যাসের যেমন সাশ্রয় হয়েছে তেমনি চুরিও বন্ধ হয়েছে। এতে গ্রাহক ও কোম্পানি উভয়ে লাভবান হয়েছে। এখন দ্বিতীয় দফায় আরো ১ লাখ গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।