বর্তমানে অসুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা, গণতন্ত্রের নামে সারা পৃথিবীতে একনায়কতন্ত্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বেড়ে যাওয়ার কারণে সামাজিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে।
শিশু কিশোরদের প্রতি মা-বাবাসহ সমাজের অভিভাবকদের মনোযোগের অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার, নিছক বৈষয়িক দিকে ঝুঁকে যাওয়া, জ্ঞান ও মানবিকতার চর্চা না থাকা, নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা কমে যাওয়া, একাকীত্বের প্রভাবে ক্রমেই মানসিক ভারসাম্য হারানোয় বাড়ছে অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশুদের সংখ্যা। চাপ বাড়ছে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে।
শিশু-কিশোরদের মানসিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২৩ অক্টোবর থেকে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা, তথ্য- উপাত্ত সংগ্রহসহ সাংস্কৃতিক চর্চা (নাটক, নৃত্য, গল্প বলা, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, চারু ও কারুশিল্প, পুতুল নাচ, গান, জাদু, মুকাভিনয় প্রভৃতি), পরিবেশনা শিল্পকলার সব অনুষঙ্গের প্রয়োগ শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। দেশের খ্যাতিমান নাট্য নির্দেশক , নাট্য শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীনের তত্ত্বাবধানে কালচারাল অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস থেরাপি নিয়ে কাজ করছে আয়শা সিদ্দিকা মনি, লিজিয়া পারভীন মনিকা, সাদমান মুবতাসিম আদীব, মো: বখতিয়ার খলজি হাশর, মারদিয়া সুলতানা সাগরিকা, শাকিব আহমেদ রাজ।
গাজীপুরের কোনাবাড়িতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা) এবং টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) —এই দুটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু হয়েছে। শিশুদের সাথে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে হতাশা, একঘেয়েমি, অপরাধবোধের গ্লানি দূর করে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে ভূমিকা রাখছে এই উদ্যোগ। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন বলেন, একটি ভুলেই জীবন শেষ নয়। অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশু-কিশোরদের কালচারাল অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস থেরাপির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সুযোগ দিয়ে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ গবেষণাটি শুরু হয়েছে। ধন্যবাদ জানাচ্ছি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক ও বালিকা)-এর তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান এবং এম ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদকে। নাসরিন জাহান, আমজাদ হোসেন, আবু বকর সিদ্দিক, জেয়াসমিন ছাড়াও সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।