সুইজারল্যান্ডে সমমজুরির দাবিতে নারীদের বিক্ষোভ

আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ১৫ মিনিটের জন্য পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়

বিবিসি

সমমজুরির দাবিতে সুইজারল্যান্ডে নারীরা রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন। এ উপলক্ষে শুক্রবার তারা কাজ বন্ধ রাখেন এবং আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন অনেক রাজনীতিবিদ। আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ১৫ মিনিটের জন্য পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দিনব্যাপী নানা ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্র্যাম নামক এক ধরনের গাড়িতে করে মিছিল, কনসার্ট থেকে শুরু করে দুপুরের খাবারের সময় বাড়ানো ও বড় পরিসরে বনভোজনের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় বার্নের সরকারি কার্যালয়ের সামনেসহ বিভিন্ন শহরে বিশাল বিক্ষোভ করেন। ইউনিয়ন ও অধিকার সংরক্ষণ দলগুলো বেগুনি সমুদ্র দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। সমমজুরির দাবিতে বিক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে বেছে নেওয়া হয়েছে বেগুনি রংকেই। তবে যে দেশে কাজ বন্ধ করা একেবারেই বিরল ঘটনা, সেখানে এ ধরনের আন্দোলন কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সুইস সংবিধানে লিঙ্গনির্বিশেষে সবার জন্য সমান মজুরির অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয় ১৯৮১ সালে। এর ১০ বছর পর, অর্থাত্ ১৯৯১ সালের ১৪ জুন প্রায় ৫ লাখ নারী কর্মক্ষেত্র বা ঘর থেকে বেরিয়ে অসমতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেন। এ ঘটনার তিন দশক পরে শুক্রবারের কর্মসূচি পরিকল্পনাকারীরা জানিয়েছেন, ব্যাপারগুলোতে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি, সমতার ক্ষেত্রে অবস্থান এখনো নড়বড়ে। নারীদের ‘বেশি সময়, বেশি অর্থ, বেশি সম্মান’ আদায় করে নেওয়ার ওপর জোর দিতে বলেছেন তারা।

সুইস নারীদের আয়ের পরিমাণ এখনো পুরুষদের চেয়ে গড়ে ২০ শতাংশ কম। জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের হিসাব অনুযায়ী, সমযোগ্যতাসম্পন্ন নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে বেতনের পার্থক্য গড়ে ৮ শতাংশ। হ্যাশট্যাগ মি টু আন্দোলন সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়ার পর নতুন প্রজন্মের নারীরা দীর্ঘস্থায়ী বৈষম্য, হয়রানি ও মজুরি পার্থক্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন।