পেশোয়ার স্কুল গণহত্যা নিয়ে নিহত ছেলের বাবার সাক্ষাৎকার

পশতুন তাহাফুজ মুভমেন্টের (পিটিএম) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফজল খান। তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী। ২০১৪ সালের পেশোয়ার স্কুল গণহত্যার সময় ফজল খানের ছেলেসহ আরও ১৪০ জন নিহত হয়েছিল। গণহত্যা নিয়ে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে এক স্বাক্ষাতকারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফজল খানের জন্ম পেশোয়ারে। পড়াশুনা শেষ করেছেন সেখানেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময় থেকে প্রান্তিক ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নের জন্য একটি আবেগ থেকেই মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন তিনি। 

তিনি ২০১৪ সালের গণহত্যার সময় নিহত শিশুদের ন্যায়বিচারের জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, তার বড় ছেলেকে হত্যার ফলে যে ট্রমা হয়েছিল তা কোনো ভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারেনা না তিনি। 

এই সাক্ষাৎকারে তিনি এক ভিয়াবহ তথ্য দেন। তিনি বলেন, সন্তানের সন্ধানে তিনি হাসপাতালে যান, কিন্তু হাসপাতালে আসা মৃতদেহ গুলো পরীক্ষা করতে ব্যার্থতার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। 

২০১৪ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য পেশাওয়ার শহরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সেনাবাহিনী পাবলিক বিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী আক্রমণ ঘটায়। এই আক্রমণে অংশ নেয়া ছয়জন জঙ্গিই বিদেশী নাগরিক ছিল। এর মাঝে একজন চেচেন, তিনজন আরব ও দুইজন আফগান ছিল। 

এই সন্ত্রাসী দলটি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে বিদ্যালয়টির কর্মচারী ও বাচ্চাদের উপর গুলিবর্ষণ করে। ফলে ১৩২ জন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ মোট ১৪৯ জন প্রাণ হারায়। নিহত শিক্ষার্থীদের বয়স আট থেকে আঠারো বছরের মধ্যে ছিল। এই ঘটনাটি ভয়াবহতার দিকে দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ে সংঘটিত গণহত্যার মধ্যে চতুর্থ।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ দল, স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ কর্তৃক একটি উদ্ধার অপারেশন পরিচালনাকালে ছয়জন সন্ত্রাসীই নিহত হয় এবং বিদ্যালয়টি থেকে ৯৬০ জন মানুষ উদ্ধার হয়।

বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ে হওয়া সন্ত্রাসী হত্যাযজ্ঞকে ২০০৪ সালে রাশিয়ারউত্তর ওশেতিয়া- আলানিয়ার বেসলান বিদ্যালয় বন্দি ঘটনার সাথে তুলনা করা হয়।