রংপুরে পরিবহন ধর্মঘট চলছে, দুর্ভোগে যাত্রীরা

রংপুরে ৩৬ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ভোর ছয়টা থেকে শুরু হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সড়কগুলোতে। দূর পাল্লা ও আন্তঃজেলার পরিবহন না চলায় গন্তব্যে যেতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) রংপুর নগরীর বিভিন্ন সড়কে এ চিত্র দেখা যায়। শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) ভোর ছয়টা থেকে শনিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে যাত্রীরা বাস না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে চড়েই গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা। যাত্রীরা বলছেন, রংপুরের মডার্ন মোড়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও বাস না পেয়ে এ পথ বেচে নিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দু-একটি বাস সকালে রংপুরে পৌঁছালেও রংপুর থেকে কোনো বাস ছাড়েনি। দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের পাশাপাশি আন্তঃজেলা পরিবহনের বাসও বন্ধ রয়েছে। রংপুর থেকে কোনো বাস ছাড়ছে না। অন্য জেলা থেকে বাস আসছেও না।

ধর্মঘটের কারণে রংপুর থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমনকি অন্য জেলা থেকেও রংপুর রুটে বাস চলছে না। ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে ট্রাক ও মাইক্রোবাসও। পরিবহন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিকল্প পন্থায় গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা। এতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি খরচও। মালামাল পরিবহন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

rongpur-2

পরিবহন মালিক নেতারা বলছেন, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে যৌথভাবে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।

এদিকে বিএনপির অভিযোগ, শনিবার (২৯ অক্টোবর) বিভাগীয় গণসমাবেশে যেনো নেতাকর্মীরা উপস্থিত হতে না পারে; সেজন্যই সরকার এ ধর্মঘটের নাটক সাজিয়েছে।

রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পঙ্কজ কুমার রায়। শনিবার তার ল্যাব ফাইনাল পরীক্ষা। বাস বন্ধ শুনে বিপাকে পড়েছেন তিনিও। পঙ্কজ-সাব্বিরদের মতই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ থেকে মেয়ের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে এসেছেন সুদীর চন্দ্র বর্মন। বাস বন্ধের খবর শুনে বাধ্য হচ্ছেন ফিরে যেতে।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, রংপুরে ধর্মঘট থাকায় তাদের দুদিনের আয় বন্ধ থাকবে। কারণ বাস না চললে মালিক পক্ষ তাদের বেতন দেয় না। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। 

রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যাকারিয়া নামে এক বাস শ্রমিক বলেন, আমরা কখনোই চাই না বাস বন্ধ থাকুক, বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন মালিকরা। কিন্তু বাস বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের মতো তাদেরও কষ্ট হয়। 

বাস টার্মিনালে আসা রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আহমেদ সিহাব বলেন, আমি বগুড়া যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে এসেছি। কিন্তু এসে দেখছি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। অথচ বগুড়ায় ধর্মঘট ডাকা হয়নি। রংপুর থেকে কোনো বাস চলাচল করতে পারছে না। এখন চিন্তায় আছি কীভাবে বাড়ি যাব। 

এদিকে ধর্মঘটের বিষয়টি চিন্তা করে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী রংপুরে এসেছেন। তবে তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের গণসমাবেশে আসতে বাধা দিতেই এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশে সরকার পক্ষে লোকজন একইভাবে সমাবেশে নেতা-কর্মীদের বাধা দিয়েছেন।

rongpur-3

জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি একেএম মোজাম্মেল হক বলেন, মহাসড়কে নিরাপত্তার জন্য পরিবহন মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আইন করেছে। কিন্তু রংপুরের মহাসড়কগুলোতে এখনো নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। এ জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এমন অবস্থায় মহাসড়কে এসব যান চলাচল বন্ধের জন্য আমরা কয়েকটি সংগঠন মিলে সভা করে রংপুরের সকল সড়ক পথে ওই পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।

রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সরকারি হস্তক্ষেপে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। সরকারি দলের মূল উদ্দেশ্য সমাবেশে আসা লোকজনকে বাধা দেওয়া। পরিবহন ধর্মঘট কোনোভাবেই নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসা ঠেকাতে পারবে না। পূর্বের সমাবেশগুলোর উপস্থিতিই তার প্রমাণ।