গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে বাড়ির কর্তাকে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ এখন কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এই সুযোগে হামলাকারীরা আবারও সংগঠিত হয়ে হামলার হুমকিসহ নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের গন্ধর্ববাড়ী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় ও মামলা এজাহার সূত্রে জানা জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত বুধবার রাতে গন্ধর্ববাড়ী গ্রামের নাহিদ মন্ডলের নেতৃত্বে ছামেছ, আনোয়ার, ছানোয়ার, সুমন, সুজন, মাসুদ, ছালামসহ সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে একই গ্রামের গোলজার রহমানের ছেলে মোশাররফ মণ্ডলের বসতবাড়িতে হামলা করে। এসময় হামলাকারীরা একাধিক ব্যক্তিকে মারপিট করে আহত এবং বাড়ীর স্ত্রী সদস্য লাঞ্চিত করে। এতে বাধা দিলে তারা আবুল কালাম মণ্ডলের মাথায় ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ অবস্থায় কালাম উঠানে বাইরে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা বাড়িঘরে হামলা লুটপাট করে বাক্সে রক্ষিত নগদ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাটে বাধা দিতে এগিয়ে এলে নাহিদের লোকজন আব্দুল ওয়াহেদকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে গুরুতর আহত করে। আহতদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে মোশাররফ মণ্ডল বাদী হয়ে গত ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নাহিদসহ ১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নম্বর ৪৭।
মামলার বাদী জানান, আসামিরা হত্যাচেষ্টার মামলা থেকে বাঁচতে এবং মামলা অন্যখাতে প্রবাহিত করতে সংঘটিত ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে হয়রানির উদ্দেশ্যে নতুন একটি মামলা দায়েরের ষড়যন্ত্র করছে।
অভিযুক্তদের একজন সুমন মণ্ডল বলেন, এভাবে মারাটা আমাদের অন্যায় হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে মীমাংসার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইজার উদ্দিন জানান, গন্ধর্ববাড়ীর ওই ঘটনাটি আমি শুনেছি। এবিষয়ে তারা একটি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে জোড় চেষ্টা চলছে।